দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছেন লন্ডন প্রবাসী ও মানবাধিকার কর্মী শামীমা বেগম নামে এক নারী।
সিলেটের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক ও তাঁর সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তা বি আর পরাগের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পর থেকেই তাঁকে অব্যাহতভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
শামীমা বেগমের দাবি, তিনি দেশে পা রাখলেই তাঁকে ‘কঠিন শিক্ষা’ দেওয়া হবে—এমন হুমকিতে বর্তমানে তিনি গভীর অনিশ্চয়তা ও জীবন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
শামীমা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের প্রতিবাদ করা অপরাধ হতে পারে না; এটি ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লড়াই। তবে অভিযোগ তোলার কারণে একজন নাগরিককে এভাবে মানসিক নির্যাতন ও হুমকির মুখে ফেলা বাক্স্বাধীনতা এবং মৌলিক নাগরিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে শামীমা বেগম প্রশ্ন তোলেন, “দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে কেন এভাবে হুমকির মুখে পড়তে হবে?” তিনি জানান, উক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি ও বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেশে ফিরলে কী ধরনের প্রীতিহীন বা বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা ভেবে তিনি চরম উদ্বিগ্ন।
এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, শামীমা বেগমের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি মেনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের তথ্য এলে তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে খতিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু অভিযোগকারীকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হলে সেটিও পৃথকভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
“এনামুল হক কি আমাকে মেরে ফেলতে চান?”—শামীমা বেগমের এই আকুল প্রশ্নটি তাঁর জীবনের চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতাকেই নির্দেশ করে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও শামীমা বেগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।