শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

হবিগঞ্জে ১১ বছর মেয়েকে লুকিয়ে রাখলেন মা!



হবিগঞ্জে ১১ বছর মেয়েকে লুকিয়ে রাখলেন মা!

হবিগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এগারো বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন চার ব্যক্তি। জেল খাটতে হয়েছে তিনজনকে। অথচ এগারো বছর পর জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপহরণ নয়; আত্মগোপনে ছিলেন ওই নারী।

জহুরা খাতুন শিমু নামে ওই নারীকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিমুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

পুলিশ জানায়, শিমুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন তার মা আমেনা খাতুন। রতনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ, সুরাব আলী, আব্বাস মিয়া ও হারুন মিয়াকে এ মামলায় আসামী করা হয়। এরপর আদালতে আত্মসমর্পন করলে তিনজনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। পরে অবশ্য চারজনই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তারা।

এরপর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিলে শিমুর সন্ধানে নামে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে শিমুকে গ্রেফতার করেন থানাটির উপ পরিদর্শক (এসআই) সনক কান্তি দাশ।

এসআই সনক বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিমু জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। পরিবারের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ বছর আত্মগোপনে ছিলেন ও সেখানে একটি কাপড়ের কারখানায় চাকরী করতেন। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হতো। বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন।

তিনি আরও জানান, মামলাটি মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে দুইবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। অবশেষে জানা গেছে মামলাটি মিথ্যা। অপরাধ না করেই ভুক্তভোগী হয়েছেন তিন আসামী।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হবিগঞ্জে ১১ বছর মেয়েকে লুকিয়ে রাখলেন মা!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

featured Image

হবিগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এগারো বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন চার ব্যক্তি। জেল খাটতে হয়েছে তিনজনকে। অথচ এগারো বছর পর জানা গেল মামলাটি মিথ্যা। অপহরণ নয়; আত্মগোপনে ছিলেন ওই নারী।

জহুরা খাতুন শিমু নামে ওই নারীকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিমুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

পুলিশ জানায়, শিমুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন তার মা আমেনা খাতুন। রতনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ, সুরাব আলী, আব্বাস মিয়া ও হারুন মিয়াকে এ মামলায় আসামী করা হয়। এরপর আদালতে আত্মসমর্পন করলে তিনজনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। পরে অবশ্য চারজনই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তারা।

এরপর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিলে শিমুর সন্ধানে নামে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে শিমুকে গ্রেফতার করেন থানাটির উপ পরিদর্শক (এসআই) সনক কান্তি দাশ।

এসআই সনক বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিমু জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। পরিবারের পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ বছর আত্মগোপনে ছিলেন ও সেখানে একটি কাপড়ের কারখানায় চাকরী করতেন। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হতো। বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন।

তিনি আরও জানান, মামলাটি মিথ্যা উল্লেখ করে আদালতে দুইবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। অবশেষে জানা গেছে মামলাটি মিথ্যা। অপরাধ না করেই ভুক্তভোগী হয়েছেন তিন আসামী।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪