শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেল খাটার প্রতিশোধ নিতে আপন বোনকে খুন, লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৩
সুনামগঞ্জের ছাতকে ইভা বেগম (১০) নামের এক স্কুলছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার স্বীকারোক্তি দিলেন আপন বড় ভাই। শনিবার বিকেলে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রিট ইসরাত জাহানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজের বোনকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন পুলিশের হাতে আটক হওয়া রবিউল হাসান (১৯)।
তিনি উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শী গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে ও উত্তর কুর্শী গ্রামের মৃত আঙ্গুর মিয়ার ছেলে খালেদ নূর হত্যা মামলার প্রধান আসামি। খালেদ নূর হত্যা মামলায় তিনি ১১ মাস কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকাবস্থায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এক মাস আগে ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খালেদ নূর হত্যা মামলায় ১১ মাস কারাভোগের পর গ্রামে এসে সহযোগীদের নিয়ে প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন রবিউল হাসান। এক পর্যায়ে নিজের স্কুল পড়ুয়া বোনকে খুন করে প্রতিপক্ষকে আসামি করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। গেল ৪ অক্টোবর স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফিরে রবিউল হাসানের ছোট বোন, দক্ষিণ কুর্শী পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইভা বেগম।
ওইদিন সন্ধ্যার আগে তার বোনকে গ্রামের একটি দোকানে মজা খাওয়ার জন্য ১০টাকা আর ২০টাকার একটি মোবাইল মিনিট কার্ড আনার জন্য পাঠায়। বোনকে দোকানে পাঠিয়ে রবিউল ও তার সহযোগীরা রাস্তায় অপেক্ষার প্রহর গুনে। মাগরিবের আযানের পর দোকান থেকে মজা ও মোবাইল মিনিট কার্ড নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় তাকে আটক করে গ্রামের একটি বাড়ির খড়ের ঘরে নিয়ে যায় তারা। হাত মুখসহ সমস্ত শরীর চেপে ধরে গলায় রামদা দিয়ে ইভাকে দ্বি-খন্ডিত করা হয়।
দেহ থেকে মস্তক আলাদা করেই শেষ নয়, উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে দেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় গ্রামের আতাউর রহমানের ধান ক্ষেতে আর মস্তক আহমদ আলী লিটনদের জমিতে ফেলে রাখা হয়। কিন্তু এর আগে বোন দোকান থেকে আর বাড়ি না ফেরায় তাকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে নাটক সাজায় হত্যাকারীরা। ধরা পড়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল হাসানের মুখ থেকে এমন লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসে। শনিবার বিকেলে তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়ার পর রবিউলকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এর আগে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্কুলছাত্রীর মস্তকবিহীন দেহটি ধান ক্ষেত থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ময়না তদন্তের জন্য দেহটি সুনামগঞ্জে মর্গে পাঠায় এবং ওইদিন ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মস্তকবিহীন দেহটি হস্তান্তর করে পুলিশ। মস্তক উদ্ধারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখলে। লাশ দাফন শেষে পিতা-পুত্র মামলা করতে থানায় আসেন। ছেলে রবিউলের প্রতি সন্দেহ হলে থানা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে নিজের বোনকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মস্তকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শনিবার ওই মস্তকটি ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ।
ক্লু-লেস মামলার লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু সাঈদ, সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রণজয় চন্দ্র মল্লিক, ছাতক থানার (ওসি) তদন্ত আরিফুল আলম প্রমুখ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রণজয় চন্দ্র মল্লিক। তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর উত্তর কুর্শী গ্রামের খালেদ নূরকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় প্রধান আসামি রবিউল হাসান। এ মামলায় তিনি ও তার মা কারাভোগ করেন। এক বছর পর একই দিনে এবং একই সময়ে মামলার বাদিদের ফাঁসাতে সহযোগীদের নিয়ে নিজের বোনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ভাই রবিউল।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত