৯ মাস পর পোড়া ক্ষত সংস্কার হচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়ি।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভের আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মিভূত হয় এসএমপি ও জেলা পুলিশের বেশ কয়েকটি স্থাপনা। এরমধ্যে অন্যতম বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি।
কোতোয়ালি থানাধীন ফাঁড়ির গুরুত্ব এ কারণেই বেশ-ওই ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ ফোর্সের আওতাধীন আদালত, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এসএমপির বন্দরবাজার ফাঁড়িসহ একাধিক স্থাপনায় আগুন দেয়া হয়। সে সময় সম্মুখভাগে হওয়াতে ফাঁড়িটির পুলিশ সদস্যরা ছিলেন বেশি নিরাপত্তাহীন। সে সময় পালিয়ে তারা আত্মরক্ষা করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা ছয়টি থানা নিয়ে গঠিত। ২০০৯ সালের যাত্রা শুরুর পর থেকে কখনো এমন কঠিন সময় পার করতে হয়নি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে। গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকার ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করে আসছিল। কেননা ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতারবিজয় লাভ করলে সারা দেশের নিয়ন্ত্রন চলে যায় ছাত্র-জনতার হাতে। ওই সময়ে
দেশের প্রতিটি স্থানে বিজয় মিছিল বের হয়। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় আক্রান্ত হয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নগরীর একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এসএমপির একাধিক প্রতিষ্ঠানও ওই সময় আক্রান্ত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। আক্রান্ত হয় কোতোয়ালী মডেল থানা ও লামাবাজার, বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট, আম্বরখানাসহ একাধিক ফাঁড়ি।
বিক্ষুব্ধ জনতা ওইদিন ফাঁড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করলে ফাঁড়িগুলো পুড়ে যায়। যে কারনে জনগুরুত্বপূর্ণ ওইসব ফাঁড়ির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পরে। নাগরিকরা বঞ্চিত হন সেবা প্রাপ্তি থেকে। শুরুতে কয়েকটি ফাঁড়ির সংস্কার করে কার্যক্রম শুরু করা গেলেও, ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ায় বন্দর বাজার ও লামাবাজার ফাঁড়ি গুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এর ফলে এই দুটি ফাঁড়ির সেবা থেকে জন সাধারণ বঞ্চিত ছিল এতোদিন। যদিও কোতোয়ালী মডেল থানা থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
দীর্ঘ ৯ মাস পর সংস্কারের ছোঁয়া পেয়েছে এসএমপির পুড়ে যাওয়া ফাঁড়িগুলো। নতুনভাবে আবারো গড়ে তুলা হচ্ছে ফাঁড়িরগুলোর অবকাঠামো। সংস্কার শুরু হওয়ায় দ্রুতই তার নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম ফিরে আসবে এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এসএমপির মিডিয়া অফিসার এডিসি সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন ৫ আগস্টের ঘটনায় এমএমপির প্রায় কয়েকশ' কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েকটি স্থাপনা আমরা সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। আশাকরি বাকিগুলোও দ্রুত সংস্কার করে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা বলেন, পুরাতন আদলেই বন্দর বাজার ফাঁড়ির সংস্কার হচ্ছে। আর লামাবাজার ফাঁড়িতে পূর্ব নির্ধারিত ভবন থাকায় নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন হচ্ছেনা। আশাকারি দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ফয়ছল আহমেদ বাবলু বলেন, জননিরাপত্তার জন্য পুলিশের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পুলিশি কার্যক্রম বন্ধ থাকা মানে অপরাধীর জন্য অপরাধ করার বড় সুযোগ। বন্দর বাজার ফাঁড়ি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই আরো আগে এর সংস্কার কাজে কর্তৃপক্ষ মনোযোগী হওয়া উচিৎ ছিল। যাইহোক দেরীতে হলেও যে সংস্কার কাজ কর্তৃপক্ষ শুরু করেছে তাই তাদের কে সাধুবাদ জানাই।
জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী এম এ মাহবুব বলেন, ফাঁড়ির সংস্কার শুরু হওয়ায় এসএমপিকে সাধুবাদ জানাই। কেননা নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি হল বন্দর বাজার ফাঁড়ি। এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফাঁড়ির কার্যক্রমের বিকল্প নাই।
সূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট
মতামত