সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

রহমত বর্ষিত হোক সবার উপর



রহমত বর্ষিত হোক সবার উপর

আজ জুমাবার। রমজান মাসের প্রথম জুমা আজ মুসল্লিরা আদায় করেছেন। সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ. , শাহপরাণ রহ.সহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনেকে ছোট্র সোনামনিদের নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। এটা ইসলামের এক সুন্দর্য। বাচ্চাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়াতে তারগিব দিতেন আমাদের নবী। জুমাবারকে সাইয়্যিদুল আইয়্যাম বা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। ইসলামে এ দিনটির মর্যাদা ও তাৎপর্য অনেক। হাদিসের কিতাবসমূহে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও উত্তম। (ইবনে মাজাহ)।

অন্য হাদিসে আছে, যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে এরমধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন।’ জুমার দিনকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জুমার ফজিলত সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, এক জুমা থেকে অপর জুমা উভয়ের মাঝে (গোনাহের জন্য) কাফ্ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা গোনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে। (মুসলিম)।

জুমার দিনে দোয়া কবুল হয়। একদিকে সিয়াম পালনকারীর দোয়া কবুল হয় অপরদিকে আজকের দিনটিতে দোয়া কবুল হয়। জুমাবারে সূরা কাহাফ তেলাওয়াতে রয়েছে অশেষ সোয়াব। সারাদিনে তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকারে কাটার পর সূর্যাস্তের পর ইফতার গ্রহণের সময়টিও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। ইফতারে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রেখে, মনে খাহেশকে ধাবিয়ে রেখে, তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকাটা দেহের জন্য ভালো। ইফতার শুরু হোক খেজুর দ্বারা।

সারাদিন সিয়াম পালনের পর সাধারণত খেজুর দিয়েই ইফতার শুরু করার অভ্যাস প্রায় সবারই আছে। বিশেষ করে বিষয়টি সুন্নত হিসেবেই পালন করে থাকেন রোজাদাররা। হাদিসেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার কথা বলা আছে।

হযরত সালমান ইবনে আমির রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মিশকাত ১৮৯৩)

ক্লান্তি দূর করে খেজুর- রোজা রাখলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। খেজুর শারীরিক ক্লান্তি দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে শর্করা যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ রয়েছে। এতে সুগারের পরিমাণ এতটাই বেশি, যে এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া খেজুরে থাকা ডায়েটারি ফাইবারও আমাদের শরীরে দীর্ঘ সময় এনার্জি বজায় রাখে।

খেজুর ইফতারের বিশেষ অনুষঙ্গ- খেজুরের পুষ্টিগুণের কারণে এ ফলটি অনেক জনপ্রিয়। এটি স্বাস্থ্যসম্মত ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। হাদিস শরিফেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ রয়েছে। হযরত আনাস বিন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে তিনি ইফতার করতেন।’ (তিরমিজি ৬৩২)

খেজুর খাওয়া বরকতের কারণ- আল্লাহর রাসূলের সুন্নতের অনুসরণে ইফতারে খেজুর খাওয়া বরকতের কারণ। তবে কেউ বিশেষ কোনো অসুস্থতা বা দাম বৃদ্ধি এবং এ জাতীয় কারণে খেজুর খেতে না পারলে কোনো সমস্যা নেই।

সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী- মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি একটি জাতীয় সমস্যা। এ কারণে পবিত্র মাসে ইবাদত পালনের আগে খাবার-দাবার নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয়। অনেকে খাবারের তালিকা কাটছাট করার চেষ্টা করেন। ব্যবসায়ীদের উচিত অধিক মূনাফা লাভের আশা না করে রমজানে মানুষের ইবাদত পালনের বিষয়টি সহজিকরণে সহযোগিতা করা। আল্লাহর রাসূল রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। অকারণে নিত্য পণ্য ও খাবার, খেজুরের দাম না বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের উচিত আল্লাহর রাসূলের বর্ণিত পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য প্রতিযোগীতা করা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রহমত বর্ষিত হোক সবার উপর

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আজ জুমাবার। রমজান মাসের প্রথম জুমা আজ মুসল্লিরা আদায় করেছেন। সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ. , শাহপরাণ রহ.সহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনেকে ছোট্র সোনামনিদের নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। এটা ইসলামের এক সুন্দর্য। বাচ্চাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়াতে তারগিব দিতেন আমাদের নবী। জুমাবারকে সাইয়্যিদুল আইয়্যাম বা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। ইসলামে এ দিনটির মর্যাদা ও তাৎপর্য অনেক। হাদিসের কিতাবসমূহে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও উত্তম। (ইবনে মাজাহ)।

অন্য হাদিসে আছে, যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে এরমধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন।’ জুমার দিনকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জুমার ফজিলত সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, এক জুমা থেকে অপর জুমা উভয়ের মাঝে (গোনাহের জন্য) কাফ্ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা গোনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে। (মুসলিম)।

জুমার দিনে দোয়া কবুল হয়। একদিকে সিয়াম পালনকারীর দোয়া কবুল হয় অপরদিকে আজকের দিনটিতে দোয়া কবুল হয়। জুমাবারে সূরা কাহাফ তেলাওয়াতে রয়েছে অশেষ সোয়াব। সারাদিনে তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকারে কাটার পর সূর্যাস্তের পর ইফতার গ্রহণের সময়টিও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। ইফতারে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রেখে, মনে খাহেশকে ধাবিয়ে রেখে, তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকাটা দেহের জন্য ভালো। ইফতার শুরু হোক খেজুর দ্বারা।

সারাদিন সিয়াম পালনের পর সাধারণত খেজুর দিয়েই ইফতার শুরু করার অভ্যাস প্রায় সবারই আছে। বিশেষ করে বিষয়টি সুন্নত হিসেবেই পালন করে থাকেন রোজাদাররা। হাদিসেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার কথা বলা আছে।

হযরত সালমান ইবনে আমির রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মিশকাত ১৮৯৩)

ক্লান্তি দূর করে খেজুর- রোজা রাখলে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। খেজুর শারীরিক ক্লান্তি দূর করে এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে শর্করা যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ রয়েছে। এতে সুগারের পরিমাণ এতটাই বেশি, যে এক কামড়েই অনেকটা এনার্জি পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া খেজুরে থাকা ডায়েটারি ফাইবারও আমাদের শরীরে দীর্ঘ সময় এনার্জি বজায় রাখে।

খেজুর ইফতারের বিশেষ অনুষঙ্গ- খেজুরের পুষ্টিগুণের কারণে এ ফলটি অনেক জনপ্রিয়। এটি স্বাস্থ্যসম্মত ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। হাদিস শরিফেও খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ রয়েছে। হযরত আনাস বিন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে তিনি ইফতার করতেন।’ (তিরমিজি ৬৩২)

খেজুর খাওয়া বরকতের কারণ- আল্লাহর রাসূলের সুন্নতের অনুসরণে ইফতারে খেজুর খাওয়া বরকতের কারণ। তবে কেউ বিশেষ কোনো অসুস্থতা বা দাম বৃদ্ধি এবং এ জাতীয় কারণে খেজুর খেতে না পারলে কোনো সমস্যা নেই।

সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী- মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি একটি জাতীয় সমস্যা। এ কারণে পবিত্র মাসে ইবাদত পালনের আগে খাবার-দাবার নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয়। অনেকে খাবারের তালিকা কাটছাট করার চেষ্টা করেন। ব্যবসায়ীদের উচিত অধিক মূনাফা লাভের আশা না করে রমজানে মানুষের ইবাদত পালনের বিষয়টি সহজিকরণে সহযোগিতা করা। আল্লাহর রাসূল রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। অকারণে নিত্য পণ্য ও খাবার, খেজুরের দাম না বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের উচিত আল্লাহর রাসূলের বর্ণিত পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য প্রতিযোগীতা করা।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
রহমত বর্ষিত হোক সবার উপর
0:00 0:00
1.0x