সুনামগঞ্জের দিরাই ও ছাতক উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দিরাইয়ে প্রেমের জেরে এবং ছাতকে ফুটবল খেলা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে দিরাই উপজেলার মাটিয়াপুর ও হলিমপুর গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমপুর ইউনিয়নের হলিমপুর গ্রামের এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যান মাটিয়াপুর গ্রামের এক যুবক। এ ঘটনায় গ্রাম দুটির প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্ঠি হয়।
পরে উভয় গ্রামের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র এবং ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
আহতরা দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দুটি গ্রামের প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে একই দিন সকালে ছাতকের চরমহল্লা ইউনিয়নের পাইগাঁ ও চরমহল্লা গ্রামবাসী মিনি ফুটবলবার টুর্ণামেন্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার জাওয়া-ছাতক মধ্যবর্তী সংযোগ সড়কে এ সংঘর্ষ ঘটে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,তদন্ত) ঝলক মোহন্ত জানান, মঙ্গলবার রাতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে মিনি ফুটবলবার টুর্ণামেন্ট নিয়ে ঝগড়া হয় সকালে গ্রামবাসীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এর জেরে পুরায় বুধবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও বলা যাচ্ছে না।
চরমহল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সালেহ আহমদ বলেন, মিনি ফুটবল বার টুর্নামেন্ট নিয়ে মঙ্গলবার রাতে পাইগাঁ ও চরমহল্লা গ্রামের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়, এর জের ধরে বুধবার সকালে লোকজন দেশী অস্ত্র ইটপাটকেল নিয়ে আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতরা কয়েক জন ২০ শয্যা বিশিষ্ট ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।