সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, সার-কীটনাশক, বীজধান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিারের সবাই কৃষিজীবী।সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারালিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের মেইন পিলারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দেখতে দেখতে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের ১৫ জন কৃষকের বসতবাড়ি ও ঘরে থাকা সমস্ত মালপত্র ভস্মীভূত হয়ে যায়। বোরো মৌসুমের সামনে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ধান-চাল, বীজধান, সার-কীটনাশক, নগদ অর্থ ও গহনা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।অগ্নিকাণ্ডের প্রায় আধা ঘণ্টা পর দিরাই উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসী সম্মিলিত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।ঘটনায় দিরাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বৈদ্যুতিক মেইন লাইন যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তবে অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সঞ্জিব সরকার। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে পুনর্বাসন ও সার্বিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।