সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বটেশ্বরে ব্যবসায়ী সুমন আহমদকে অপহরণ করে মারধর, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং সঙ্গে থাকা ৪ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আরও ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সুমন আহমদ। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ নেওয়া বেগম শাহপরাণ (রহঃ) থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুমন আহমদ অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে একটি প্রাইভেট কার কেনার উদ্দেশ্যে সিলেট শহরের দিকে যাওয়ার সময় শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন বটেশ্বর বাজারে পৌঁছালে হারুনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। পরে তাকে বটেশ্বর চুয়াবহ এলাকার রণকেলী হাউজিংয়ের একটি ব্রিজে নিয়ে যাওয়া হয়।সুমনের অভিযোগ, সেখান থেকে তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গলায় চাকু ধরে তার মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে লোহার রড, জিআই পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে অজ্ঞাত একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে রাখা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আরও ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।সুমনের দাবি, জীবন রক্ষার জন্য তার বন্ধু ইবাদুল্লাহর ব্যাংক হিসাব থেকে জুয়েল এন্টারপ্রাইজ, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, দরবস্ত শাখার হিসাবে ১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এরপর কোনোভাবে তিনি তাদের কবল থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে প্রথমে খাদিমপাড়ার ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।সুমন বলেন, তার মা ইতোমধ্যে শাহপরাণ (রহঃ) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও তিনি জানান।সংবাদ সম্মেলনে সুমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারের দাবি জানান। পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা যে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, সেই লেনদেন তদন্ত এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারসহ সম্ভাব্য আলামত তদন্তের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান সুমন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সুমনের মা ও স্ত্রীও পুলিশ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সত্য তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।সুমন আহমদ বলেন, তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান না; নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চান।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।