মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

১০ অক্টোবর হচ্ছে না ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

শারদীয় দুর্গাপূজার কারণে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। ১০ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটির লিয়াজোঁ কমিটি।সোমবার বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জরুরি সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে লংমার্চের রুট, পথসভা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।তিনি জানান, এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুরের দুটি লংমার্চ দেশবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় সফল হয়েছে। এবারও প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চান তারা।লংমার্চের আগে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও তার সঙ্গে আচরণ, কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নিন্দা জানান তিনি।এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।লংমার্চের সাত দফা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের কয়েক মাসের শাসনে মানুষের দুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই তৃতীয় দফার লংমার্চ সময়োপযোগী বলে মনে করেন তারা।কর্মসূচির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের সূচনা হবে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ৮টায় গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া সড়ক দিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় প্রথম পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মাদারীপুর, ভাঙ্গা ও ফরিদপুর হয়ে গাড়িবহর যাবে গোপালগঞ্জের দিকে। পরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়েও একটি পথসভা হবে।এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর বা শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। সেখান থেকে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও আরেকটি পথসভা করার কথা রয়েছে।পরবর্তী সময়ে যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভা শেষে গাড়িবহর ঝিনাইদহের উদ্দেশে যাবে। ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বড় একটি পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে রাত আনুমানিক ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে হবে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সময়ের হিসাবে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে রাত ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে।প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি লংমার্চের রুটের সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আগেই দুঃখ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার দিকে তারা নজর রাখবেন।লংমার্চে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। কর্মীদের কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।অটোরিকশা চালকদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের ন্যায্য দাবির প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন রয়েছে। তবে কোনো কর্মসূচিতে ভাঙচুর, সহিংসতা বা জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠুক, সেটি তারা চান না। অটোরিকশা চালকদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকারকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

 ১০ অক্টোবর হচ্ছে না ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ