পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় দুই সাংবাদিক আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব।ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওসমানী হাসপাতাল এ অঞ্চলের চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল। এখানে কর্মরত চিকিৎসকরা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। কিন্তু ইন্টার্ণ চিকিৎসক নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী প্রায়ই রোগি ও তাদের স্বজনদের হেনস্তা ও মারধর করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করেন। যার পূণরাবৃত্তি ঘটেছে বুধবার রাতে। রোগির স্বজনদের মারধর করার তথ্য সংগ্রহ, ছবি-ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ইন্টার্ণ চিকিৎসক দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। পরিচয় জেনেও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে।সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু সংবাদ মাধ্যমের ওপর আঘাত নয় বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।সিলেট জেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ওসমানী হাসপাতালসহ সকল ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।জেলা প্রেসক্লাবের জরুরী সভা:এদিকে, হামলার ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ক্লাব কার্যালয়ে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৈঠকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। বক্তারা বলেন, এই ধরণের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় সিলেটের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া সভা থেকে বেশ কিছু কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, দৈনিক বৃহত্তর সিলেটের মানচিত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফয়সল আহমদ বাবলু, ক্লাবের সহ সভাপতি সজল ঘোষ, দৈনিক আধুনিক কাগজের প্রকাশক ও ক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি সাঈদ চৌধুরী টিপু, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজাউল হক ডালিম, ক্লাব সদস্য মামুন হাসান, ইমরান আহমদ, ক্লাব সদস্য ও আজকের সিলেট.কম এর সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, কালবেলার ব্যুরো প্রধান মিঠু দাস জয়, ক্লাব সদস্য ওলিউর রহমান, ক্লাব সদস্য ও দৈনিক শ্যামল সিলেটের সিনিয়র রিপোর্টার আতিকুর রহমান নগরী, শ্যামল সিলেটের স্পোটর্স ইনচার্জ কাইয়ুম আল রণি, আহমেদ শাহীন, নাজাত আহমদ পুরকায়স্ত, জয়ন্ত কুমার দাস প্রমুখউল্লেখ্য, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের খবর পেয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল সিলেটভিউ২৪-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার। তারা দুজনই সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এ দুজনকে স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করেন। নির্যাতিত সাংবাদিকরা ওই সময় বার বার নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়েও রক্ষা পাননি হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাত থেকে। তারা বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।