মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ভেজাল ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

খাদ্যে ভেজাল ও স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বন্ধ না হলে শুধু হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা ডায়ালিসিস মেশিন স্থাপন করে মানুষের অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, জনগণের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের একটি টাকাও দুর্নীতির পকেটে যেতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের নির্বাচনী ইশতেহারে রোগ প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে কিডনিসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়বে।তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডায়ালিসিস মেশিন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিকট অতীতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ধারা ভাঙতে হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না। দুর্নীতির সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আয়োডিনের ঘাটতি মোকাবিলায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ফলে আয়োডিনের অভাবজনিত বুদ্ধিবিকাশের সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, এখনো দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করছেন।এই জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকের হোসেন খান, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

ভেজাল ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী