বিশ্বনাথ পৌরশহরের কলেজ রোডের ডাকবাংলো এবং তার আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সময়ে ও একই স্থানে দুটি পৃথক পক্ষ মুখোমুখি প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।বুধবার বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান ১৪৪ ধারা জারির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। এলাকাটিতে সকল প্রকার সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লাঠি, কোনো প্রকার অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করা যাবে না। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছে উপজেলা প্রশাসন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এবং ইশবপুর গ্রামের হাজী সফির আলীর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসী মাইকে ঘোষণা দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং পরবর্তীতে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়।চেয়ারম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ডাকবাংলো এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল ও সভার ডাক দেয় উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। অন্যদিকে, একই স্থানে ও একই সময়ে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে ‘উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেয়া হয়।একই সময়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে হেতু জনস্বার্থ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির এই সিদ্ধান্ত নেয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।