সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন।
আজ শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় উপজেলার ঘিলাছড়া এলাকার হযরত শাহ ছঈদ আলী রহ.'র মাজার প্রাঙ্গনে নামাজে জানাযা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইনসহ সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা।
এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন মৃত্যুর আগে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, যা নিয়ে সিলেট জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেলিনা ইয়াসমীন গত ১৫ নভেম্বরের এক স্ট্যাটাসে নিজের শারীরিক অবস্থা খারাপ বলে জানান। স্ট্যাটাসটিতে তিনি সকলের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এরপর তিনি গত ৫ ডিসেম্বর আরেকটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে তিনি তার পরিণতির জন্য তিনজনকে দায়ী করেন। তার মেয়ে সময় মতো এ তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করবেন বলে স্ট্যাটাসটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন।
২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার বেলা ১টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর সেলিনা ইয়াসমীনের ওই ৫ ডিসেম্বরের স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাল হয়। এ নারী ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তবে সেলিনার শোকাহত পরিবারের কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলছেননা তারা।
গত ৫ ডিসেম্বর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেলিনা ইয়াসমীন লেখেন, ‘আমি বারবার বলছি, আমি বিভিন্নভাবে মানুষের চাপের মুখে আছি। আমিও একজন মানুষ। আমারও পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যদি আমার শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো ক্ষতি হয়, তার জন্য মাত্র তিনজন মানুষ দায়ী থাকবে। সব প্রমাণ আমার মেয়ের কাছে আছে। যথোপযুক্ত সময়ে আমার মেয়ে তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবে। মনে রাখবেন শুধু তিনজন মানুষ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমার ও আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া করবেন।’
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম শোক প্রকাশ করে শ্যামল সিলেটকে জানান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমীন শিক্ষিত এবং মেদাবী ছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, ফেইসবুকের এক স্ট্যাটাস দিয়ে সেলিনা ইয়াসমিন যে ৩ জনকে দায়ী করেছেন এবং তথ্য প্রমান তাঁর মেয়ের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন, এসব বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়নি। যদি সেলিনা ইয়াসমিন আমাকে বিষয়টি শেয়ার করতেন তাহলে ওই ৩ জন ব্যাক্তি যতবড় শক্তিশালী হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় নেয়া সময়ের ব্যাপার ছিল।
স্থানীয় ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী লেইচ চৌধুরী জানান, একজন নারী নেত্রীকে হারালাম তবে এতো ক্ষোভ নিয়ে তিনি মারা গেছেন সে বিষয়টি কখনো শেয়ার করেননি।
প্রয়াত নারী ভাইস চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই ফুজায়েল ইসলাম মুহিত বলেন, ‘আসলে আপু ওই পোস্ট দেওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তিনি স্ট্রোকও করেন, তাছাড়া কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়। আলাপ করার মতো অবস্থা ওনার ছিল না তাই বিশেষ কিছু জানা হয়নি।
২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন ছিলেন সবার ছোট। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। বেড়ে উঠা ও শিক্ষা ঢাকা চাচার বাসায় থেকে। ১ কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন তিনি। স্বামী সাংবাদিক ইয়াছির ইয়ামিন বাংলা ভিশন টেলিভিশনের একজন সঞ্চালক। জানা যায়, তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তবে মেয়েকে নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম যুধিষ্ঠিপুর গ্রামে থাকতেন তিনি (সেলিনা)। পিতা মরহুম তাহের আহমদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরী করতেন। দাদা মরহুম আরফান আলী ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
মতামত