সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে কৃষকের মুখে হাসির ঝলক



জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে কৃষকের মুখে হাসির ঝলক

বৈশাখের পূর্বে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর ঝড়। লাগাতার দু'দিন থেকে শুরু হওয়া ঝড়বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের কৃষকের মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠেছে।

বিস্তীর্ণ হাওরের বুকে ঢেউ খেলছে। নতুন ধানের ভরে উঠেছে চারদিক। অনাবৃষ্টির পর গতকাল মঙ্গলবার বৃষ্টি হওয়াতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে জগন্নাথপুরের কৃষকদের মধ্যে। চলতি মৌসুমে উপজেলার বোরো আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুটিই অর্জিত হয়েছে। উপজেলায় হাইব্রিড ও দেশি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার বোরো মৌসুমে ২ হাজার একশত ৮৫ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ নির্ধারন করা হলেও লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি হয়ে ২ হাজার তিনশত ৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে এবার কৃষকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জাতের নতুন হাইব্রিড চারা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন জাতের ধান ৮৮, ৮৯, ৯২ চারা এবার প্রথম রোপন করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ফলন ভাল না হলেও এবার করোনার মধ্যেও বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতিটি ধান গাছের থোকায় থোকায় প্রচুর পরিমাণে ধান হবে বলে আশা করেন কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন ধানের জমিতে ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত জুড়ে সবুজ ফসলের খেলা। বাতাসে সবুজ ধানগুলো দোল খাচ্ছে। একেকটি ধানের শীষ যেন কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজার দরও এবার ভালো পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করেন।

কৃষক হাজী এখলাছুর রহমান আখলই বলেন, আমি এ বছর প্রায় ৪ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১০ মণ ধান পাওয়া যাবে। ধানের ফলন ও গুণ ভালো হলে দামও বেশি পাব। অন্যান্য বছর ধান আবাদ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হয়েছে পাঁচশ থেকে সাড়ে পাচঁশ টাকা দরে। তবে এবার প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে পারবো নয়শ থেকে এক হাজার টাকা দরে কেননা আগের চেয়ে এখন ধানের দাম বেশী।

জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষি অফিসার শওকত ওসমান মজুমদার জানান, এ মৌসুমে ২ হাজার একশত ৮৫ হেক্টর ধানের চাষাবাদ নির্ধারন করা হলেও লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে ২ হাজার তিনশত ৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে এবার কৃষকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জাতের নতুন হাইব্রিড চারা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন জাতের ধান ৮৮, ৮৯, ৯২ জাতের চারা এবার প্রথম রোপন করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিকঢন ধান কৃষকেরা ঘরে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, এবার সামান্য শিলা বৃষ্টি হয়েছিল এ বৃষ্টিতে ধানের তেমন ক্ষতি হয় নাই।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে কৃষকের মুখে হাসির ঝলক

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২১

featured Image

বৈশাখের পূর্বে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর ঝড়। লাগাতার দু'দিন থেকে শুরু হওয়া ঝড়বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের কৃষকের মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠেছে।

বিস্তীর্ণ হাওরের বুকে ঢেউ খেলছে। নতুন ধানের ভরে উঠেছে চারদিক। অনাবৃষ্টির পর গতকাল মঙ্গলবার বৃষ্টি হওয়াতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে জগন্নাথপুরের কৃষকদের মধ্যে। চলতি মৌসুমে উপজেলার বোরো আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুটিই অর্জিত হয়েছে। উপজেলায় হাইব্রিড ও দেশি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার বোরো মৌসুমে ২ হাজার একশত ৮৫ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ নির্ধারন করা হলেও লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি হয়ে ২ হাজার তিনশত ৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে এবার কৃষকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জাতের নতুন হাইব্রিড চারা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন জাতের ধান ৮৮, ৮৯, ৯২ চারা এবার প্রথম রোপন করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ফলন ভাল না হলেও এবার করোনার মধ্যেও বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতিটি ধান গাছের থোকায় থোকায় প্রচুর পরিমাণে ধান হবে বলে আশা করেন কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন ধানের জমিতে ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত জুড়ে সবুজ ফসলের খেলা। বাতাসে সবুজ ধানগুলো দোল খাচ্ছে। একেকটি ধানের শীষ যেন কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজার দরও এবার ভালো পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করেন।

কৃষক হাজী এখলাছুর রহমান আখলই বলেন, আমি এ বছর প্রায় ৪ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১০ মণ ধান পাওয়া যাবে। ধানের ফলন ও গুণ ভালো হলে দামও বেশি পাব। অন্যান্য বছর ধান আবাদ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হয়েছে পাঁচশ থেকে সাড়ে পাচঁশ টাকা দরে। তবে এবার প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে পারবো নয়শ থেকে এক হাজার টাকা দরে কেননা আগের চেয়ে এখন ধানের দাম বেশী।

জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষি অফিসার শওকত ওসমান মজুমদার জানান, এ মৌসুমে ২ হাজার একশত ৮৫ হেক্টর ধানের চাষাবাদ নির্ধারন করা হলেও লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে ২ হাজার তিনশত ৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে এবার কৃষকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জাতের নতুন হাইব্রিড চারা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন জাতের ধান ৮৮, ৮৯, ৯২ জাতের চারা এবার প্রথম রোপন করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিকঢন ধান কৃষকেরা ঘরে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, এবার সামান্য শিলা বৃষ্টি হয়েছিল এ বৃষ্টিতে ধানের তেমন ক্ষতি হয় নাই।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে কৃষকের মুখে হাসির ঝলক
0:00 0:00
1.0x