আগে ১০ রোজার আগেই বন্ধ করে দিতাম সকল অর্ডার রাখা। গেলো বছর থেকে মনমরা অবস্থা আর হাহাকারে যাচ্ছে দিন। ঋণ করে দিতে হচ্ছে দোকান ও বাসা ভাড়া। এমনটাই করিম উল্লাহ মার্কেটের এক টেইলার্স ব্যবসায়ী জানালেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন-করোনার ১ম ধাপে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে গেছি।কিন্তু এবার তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। আর করবোই বা কী করে খেয়েদেয়ে নিজে বাঁচাই মুশকিল।
এই করোনাকালে চলা লকডাউনে কেমন চলছে এ পেশার মানুষজন- জানতে চাইলে মিরাবাজারের সৈকত টেইলার্সের মালিক এম.এ ছত্তার জানান, খুব খারাপ অবস্থা ভাই। খুব খারাপ। বলতে গেলে বেকার বসে থাকতে হচ্ছে। কাজ নেই। আয়-রোজগার হবে কেমনে? অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহামারি করোনার প্রভাবে গত এক বছরে তিনি যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা আগামী ৫ বছরেও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবেনা।
শুধু মহারাজা বা সৈকত টেইলার্স নয়- সিলেট মহানগরীর অন্তত সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪শ’টি দর্জি দোকানের প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মালিক শ্রমিকের অবস্থাও এখন বিপন্ন। করোনার আগে কোনমতে তারা জীবন-যাপন করতে পারলেও এই ভয়াবহ মহামারিতে তাদের জীবন বলতে গেলে প্রায় থমকে গেছে।
কর্মচারিদের বেতন, ঘরভাড়া আর বিদ্যুৎ বিলের চাপে তাদের অবস্থা খুব খারাপ। কেউ কেউতো বলছেন, বেঁচে থাকাটাই এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে করোনাকালের এই লকডাউনে। কেউ কেউ আক্ষেপ করে জানালেন, সরকার করোনাকালে সাহায্য সহায়তা দিলেও তারা এ থেকে বঞ্চিত। কোনভাবেই কোন সহায়তার ক্ষেত্রে তাদের কথা কেউ বিবেচনা করেন না।
বিশ্বে করোনা নামক মহামারির আগেও দর্জিদের জীবন মোটামুটিভাবে হলেও সচল ছিল। বিশেষ করে রমজানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিনগুলোতে তাদের কমবেশ ব্যস্ততা ছিল। অনেকেই এই ঈদকে সামনে রেখে সারা বছরের বাজেট করতেন। বাচ্চাদের লেখাপড়া ওষুধ ডাক্তার আত্মীয়তা ভ্রমন সবকিছুই হতো দুই ঈদের বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের আয়ের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু এখন আর সেই দিনগুলো নেই। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন দর্জি নয় কিন্তু দোকান বা কারখানা খুলে শ্রমিক বা কর্মচারিদের দিয়ে ব্যবসা চালানো মালিক পক্ষ।
তাদের অবস্থা দিশাহারার মতো। ক্ষতির মুখে পড়ে এখন তাদের অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন বাধ্য হয়ে। অবশ্য এক্ষেত্রে ক্ষতির আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কারণও বের হলো দর্জিদের সাথে আলাপকালে। তারা জানালেন, আজকাল ঘরে বসে অনেক মহিলা দর্জিই আছেন যারা কাজ করছেন। এতে তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সামগ্রিকভাবে যারা দোকান ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এ পেশার সাথে যুক্ত, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মারাত্মক। কিন্তু তবু করোনা নামক মহামারি না থাকলে তাদের জীবনটা আরেকটু ভালোই চলত বলে মতামত ব্যক্ত করলেন অনেকে।
মতামত