সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নগরীতে ছড়া-খালে আবর্জনা, বর্ষায় শঙ্কা
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৩
‘দোকানের সামনের রাস্তা থেকে ময়লা ময়লা-আবর্জনা সরাচ্ছিলেন শফিক মিয়া। আধ ঘন্টার বৃষ্টিতে পাশের ড্রেন থেকে ভেসে আসছিল ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এসব ময়লা থেকে ভেসে আসছে দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধের কারণে শফিক মিয়ার দোকানের নিয়মিত ক্রেতারা আসতে চাইছেন না দোকানে! অগত্যা একটি লোহা জাতীয় দন্ড দিয়ে তিনি ভেসে আসা আবর্জনা সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেন।’
শফিক মিয়ার দোকান নগরীর নাইওরপুলে। শুধু শফিক মিয়াই নন, এমন দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন তালতলা এলাকার টায়ার ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দিন। একই অভিযোগ ধোপাদীঘিড়পাড়ের ব্যবসায়ী শওকত আলীর। সবচে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কালিঘাট, ছড়ারপাড় ও মাছিমপুর এলাকার লোকজন। জলাবদ্ধতাসহ ড্রেনের আবর্জনার চিত্র এই এলাকার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
তাছাড়া সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের বাসা সংলগ্ন ড্রেনগুলোতে ভেসে উঠেছে আবর্জনার স্তুপ। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। নগরবাসীর আশঙ্কা ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে অল্প বৃষ্টিতে দোকানপাঠ ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পরবে।
বৃহস্পতিবার নগরীর লামাবাজার ভাতালিয়া গলির নোয়াপাড়া মসজিদের পূর্বে সড়কের পাশে দেখা যায় খোলা ড্রেনে আবর্জনা জমে পানিপ্রবাহ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বদ্ধ পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
স্থানীয়রা জানান, এখানে প্রায়ই এরকম অবস্থা থাকে। মাঝেমধ্যে সিটির কর্মীরা ড্রেন পরিস্কারের কাজ করলেও আবর্জনার স্তুপ রেখে যান রাস্তার পাশেই। কিন্তু সময়মতো আবর্জনা ড্রেনের পাশ থেকে না সরানোয় উত্তোলিত আবর্জনা পুনরায় স্বস্থানে চলে যাচ্ছে। নজরদারি ও পরিকল্পনার অভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজ পন্ডশ্রমে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আবর্জনা পরিবাহী গাড়িগুলো যখন আবর্জনা নিতে আসে তখন অনেক আবর্জনাই ড্রেনেই পড়ে যায়।
প্রতিক্রিয়ার জানতে চাইলে ভুক্তভোগীরা বলছেন, এগুলো হচ্ছে মেয়র আরিফের অপরিকল্পিত উন্নয়নের দুর্ভোগ। এই দুর্ভোগ লাঘবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেও টানা দুইবারে মেয়র নগরবাসীর এই দুর্ভোগ সমাধান করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।
সামনের বর্ষকাল নিয়ে শঙ্কায় নগরবাসী। মাত্র কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে নালা-ছড়া উপচে রাস্তায় পানি উঠে আসে। এরসাথে আসে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। বৃষ্টি থামলে পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন বাসাবাড়ির উঠোন ও রাস্তায় পড়ে থাকে ড্রেন থেকে উঠে আসা ময়লা, কাদা ও আবর্জনা। এসব আবর্জনায় পরিবেশ দুষিত হয়ে পড়ে। ড্রেনে ময়লার স্তুপের কারণে পানি প্রবাহে বিঘœ ঘটে।
ঠিকমতো নালা, ছড়া, ড্রেন পরিষ্কার না করায় এমন হচ্ছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। তারা অভিযোগ করেন সিটি করপোরেশন দায়সারাভাবে মাঝেমধ্যে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করে। তাছাড়া যখন পরিষ্কার করে তখন ড্রেন থেকে তোলা আবর্জনা ড্রেনের পাশেই কয়েকদিন ফেলে রাখে। ফলে এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এরসাথে ছড়াচ্ছে নানান রোগবালাই। পানিবন্দীর বিড়ম্বনা তো থাকছেই।
সরেজমিন নগরীর লামাবাজার, ভাতালিয়া, নোয়াপাড়া, দাড়িয়াপাড়া, জল্লারপার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি এলাকার ড্রেনে ময়লার স্তুপ। বড় বড় ড্রেনগুলোর মুখে ময়লা জমে বন্ধ হয়ে আছে আর ছোটো ছোটো ড্রেনগুলো পুরোটাই ময়লা আবর্জনায় ঢেকে আছে। এলাকাবাসী বলেন মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করে। তারা রাস্তার পাশের সামনের দিকে পরিষ্কার করলেও ভেতরের দিকে হাত দেয় না। আসলে তারা দায় সারছে কিন্তু নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছেনা।
বৃষ্টির পানিতে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিঃসন্দেহে বিষয়টি গভীর উদ্বেগের। তবে এই ঘটনার জন্য শুধু মেয়রকে এককভাবে দায়ি করা যুক্তিযুক্ত নয়। এমন সমস্যা নগরীর সবকটি ওয়ার্ডে বিদ্যমান।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজ নিজ ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজেদের ডিমান্ড জানালে মেয়র মহোদয়ের জন্য কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। তবে তিনি নগরবাসীকেও এ ব্যাপারে সচেতন থাকার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রাস্তার ফেলে রাখার কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সিলেট জেলা সাবেক আহবায়ক মুকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ড্রেন ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় অল্প কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে ড্রেন উপচে পানি আর ময়লা রাস্তায় চলে আসে। বৃষ্টি হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি কখন পানি এসে বাসায় ঢুকে। পানির চেয়ে আরও বেশি সমস্যা পানি নেমে যাওয়ার পর ময়লা, কাদা আর আবর্জনার বিড়ম্বনা। পানি নেমে গেলেও রয়ে যায় আবর্জনা আর বর্জ্য। তাই এবিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া জরুরি। এতে মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভও বাড়ছে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘এরই নাম অপরিকল্পিত উন্নয়ন। যে খাতে টাকার অপচয় এবং লুটপাট চলবে কিন্তু কমবে না দুর্ভোগ। এর ফলে নগরীর ১১ টি ছড়া ও খাল উদ্ধার, ড্রেনেজ সংস্কারের নামে সরকারি বরাদ্দ আসলেও শঙ্কা কমছে না নগরবাসীর।
নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুমিন বলেন, কিছু ড্রেনের সংস্কার কাজ এখনও চলমান। এখন আর ছড়ারপারে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় না। তবে চলমান কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা এবং ড্রেনেজ সমস্যা থেকে ওয়ার্ডবাসী পরিত্রাণ পাবে।
সূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত