সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটে বহিস্কার হচ্ছেন বিএনপির 'বিদ্রোহীরা'
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৩
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতাদের মাথার ওপর ঝুলছে শাস্তির খড়গ। ২জুন বিদ্রোহী নেতাদের বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হবে।
এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁরা জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া শেষ।
এখন চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদেরকে বহিস্কার করা হবে। তবে, সিদ্ধান্তের দিকে তাকানোর সুযোগ নেই ভোটে লড়া বিএনপি নেতাদের। তাঁদের অনেকেই বলছেন, বিএনপির পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে তাঁরা প্রার্থী হনননি।
ভোটে লড়ার জন্য স্থানীয় মানুষের চাপ ছিল। তাদের জন্য কাজ করতেই প্রার্থী হয়েছেন। এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।
দলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয় নেতাকর্মীদের। দলের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী নেতাদের কেন্দ্রের সিদ্ধান্তবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। দলের সিদ্ধান্ত মেনে সবার আগে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেন নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের টানা চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। অনেক নাটকীয়তার পর ২০ মে নাগরিক সমাবেশ করে মেয়র পদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত দেন।
এর পর একে একে ভোটে না লড়ার বিএনপির প্রায় দুই ডজন নেতা। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত ও কঠোরবার্তা আমেলে নেননি বিএনপির প্রায় ২৫জন নেতাকর্মী। তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এঁদের মধ্যে সাত ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলরও রয়েছেন। তাঁরা ভোটে লড়ার সিদ্ধান্তে এখনও অটল রয়েছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন জোরেশোরে।
তাঁরা হলেন ১নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম. ১৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য নজরুল ইসলাম মুনিম, ১৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বিএনপি নেত্রী শাহানা বেগম শানু ও সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা দলের সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ, সংরক্ষিত ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপি, সংরক্ষিত ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দিবারাণী, ১৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান মুজিব, ২৬নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সেলিম আহমদ রনি, ৩৯নং ওয়ার্ডে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, ১নং ওয়ার্ডে মুফতি কমর উদ্দিন, ৩নং ওয়ার্ডে মো. মিজানুর রহমান, ৪নং ওয়ার্ডে কামাল মিয়া ও শেখ মো. শাহেদ সিরাজ, ১০নং ওয়ার্ডে আফতাব, ১২নং ওয়ার্ডে আবদুল কাদির, ১৮নং ওয়ার্ডে সালমান চৌধুরী, ২৩ নং ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মামুনুর রহমান মামুন এবং সংরক্ষিত ৪ নং ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট জোহরা জাসমিন ও রাহেনা খানম মুক্তা, ৩৩নং ওয়ার্ডে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন নাদিম, ৩৩নং ওয়ার্ডে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা গৌস উদ্দিন পাখি. ৩৭নং ওয়ার্ডে উপজেলা বিএনপি নেতা দিলওয়ার হোসেন জয়, ৩৮নং ওয়ার্ডে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক উসমান হারুন পনির, ৪০নং ওয়ার্ডে ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. আবদুল হাছিব।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। ১জুন প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে তাঁরা বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কার হবেন। ২ জুনই বহিস্কারেশ তাদের কাছে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বিএনপির দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো নেতাকর্মী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সম্ভাব্য প্রার্থী ধরে দলের ৩২ জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে ১৪ জন নির্বাচন বর্জন করেছেন। আরো একজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন। আর যারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন না, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে লড়বেন- তাদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
কেন্দ্র থেকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেমনটি গাজিপুর সিটি নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই স্থানীয় নির্বাচন তাঁরা বর্জন করছেন।
এরই অংশ হিসেবে সিটি নির্বাচনেও বিএনপি যাচ্ছে না। শুধু মেয়র পদে নয়, কাউন্সিলর পদেও কেউ যেন প্রার্থী না হন, দলের নির্দেশনা আছে। সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে স্থায়ী বহিষ্কার হতে হবে বলে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন বর্জন করেছি। ইতিমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিএনপির যেসব নেতা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরাও প্রতিদ্ব›িদ্বতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছি। আশা করছি অনেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন বর্জন করবেন।’
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যে ৩২ নেতাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে মহানগর বিএনপি চিঠি দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৪ জন ইতিমধ্যে দলের নির্দেশনা মেনে সরে দাঁড়িয়েছেন। বাকিরা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে দল আশা করে।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৯ থেকে ৩১ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ জুন। প্রতীক বরাদ্দ ২ জুন এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ২১ জুন।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত