সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওসমানীনগরে সম্পত্তির লোভে ১৪ মামলা, প্রাণে বাঁচার আকুতি বৃদ্ধ বাবার
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৩
সন্তানের জন্য বটবৃক্ষ একজন বাবা। জীবনের সোনালী অধ্যায় অকাতরে বিলিয়ে দেন সন্তানদের আহ্লাদ পূরণে, মানুষ করতে গিয়ে।
বৃদ্ধ বয়সে সেই সন্তানের হাতেই বাবার যাপিত জীবন। ক্ষেত্র বিশেষে এর উল্টো চিত্রও পরিলক্ষিত হয় সমাজে। যেমনটি হয়েছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ হানিফ উল্ল্যার ছেলে আব্দুল হেকিমের বেলায়।
সম্পত্তির লোভে সন্তানদের মামলার ঘানি টানছেন আশিউর্ধ্ব বৃদ্ধ মোহাম্মদ আব্দুল হেকিম। বৃদ্ধ বাবার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ ১৪টি মামলায় দায়ের করেছেন তার সন্তানরা। সম্পদের লোভী ছেলেদের ভয়ে তটস্থ বৃদ্ধা পিতা নিজের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন।
শনিবার (২১ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সন্তানদের এমন বৈরী আচরণের কথা তুলে ধরেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী তার ছেলে আব্দুল গণি (৪৪) সম্পত্তির লোভে তাকে বাড়ি ছাড়া করতে নিজে বাদী হয়ে এবং অন্য লোক দিয়ে ১৪টি মামলা করেছেন। টাকার জোরে অন্য ছেলেরা ও ছোট ভাই (আব্দুল হেকিমের) তার (ছেলের) পক্ষ নিয়েছে। ছেলেদের মধ্যে আব্দুল ওয়াহাব (৩২), আবুল কালাম (৩০) এবং ছোট ভাই সামির উদ্দিন (৫৭) একজোট হয়ে সম্পত্তি জোরপূর্বক তাদের তৈরি করা দলিলপত্রে স্বাক্ষর নিতে চায়। এতে সম্মত না হওয়ায় মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হেকিম বলেন, এসব ঘটনায় ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে ওসমানীনগর থানাকে নির্দেশ দেয়। যার মামলা নং-জিআর-২৩০/’২১। মামলা দায়েরের পর আমার সন্তান ও তাদের সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। এরপর ওই বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা দেশিয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টি করে। তাকে বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিতে চায়। প্রতিকার চেয়ে ওই বছরের ২১ নভেম্বর পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত দরখাস্ত দেই। কিন্তু এরপরও তাদের আক্রোশ আমার প্রতি থেমে থাকেনি।
নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ওসমানীনগর অনলাইন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন, যা বিভিন্ন টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। কিন্তু দেশে-বিদেশে থাকা তার ছেলে ও তাদের সহযোগীরা মান-সম্মান নষ্ট করতে ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আজেবাজে মন্তব্য করে আসছিল। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত মামলা (নং-১১৩/২০২২) করেন আব্দুল হেকিম। মামলাটি তদন্ত করে অপরাধের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ছেলে আব্দুল গণি যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়। মামলা থেকে স্থায়ী জামিন নিতে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজিরা দিলে বিচারক তাকে ভৎসনা করেন।
আব্দুল হেকিম বলেন, ওইদিন বিচারকের নির্দেশে সে মাফ চাইলে পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়। এই সুযোগে সংবাদ সম্মেলনের ইস্যুতে পিতার বিরুদ্ধে এবং সাংবাদিকদের জড়িয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে দরখাস্ত মামলা (নং-১৯৬/২০২৩) দায়ের করেন আব্দুল গণি। মামলায় আব্দুল গণি তার বাবা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনের নিউজ লিংক শেয়ার দেওয়া আনোয়ার হোসেন, ওসমানীনগর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তী ও অনলাইন ভিত্তিক একটি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন রাসেলসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করেন। আক্রোশ মেটাতে গিয়ে বাবার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার মোকাবিলা করতে আব্দুল গণি পাল্টা মামলা করেন বলে দাবি বৃদ্ধ আব্দুল হেকিমের।
আক্ষেপ করে আব্দুল হেকিম বলেন, সন্তানদের মানুষ করতে অন্য বাবাদের মতো তিনিও সবকিছু উৎসর্গ করে পড়ালেখা করিয়েছেন। ঢাকা, সিলেট শহরের বাড়ি বিক্রি করে উচ্চ শিক্ষার জন্য ছেলে আব্দুল গণিকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। টাকা খরচ করে ছোট ভাইকে কানাডা পাঠিয়েছিলাম। পড়ালেখা করিয়ে ছেলেদের ডিগ্রি অর্জন করাতে পারলেও মানুষের মতো মানুষ করতে পারিনি। সন্তানদের জন্য অকাতরে সবকিছু বিলিয়ে দিলেও সেই সন্তানরাই এখন পিতাকে কারাগারে নিমজ্জিত করতে চায়, হত্যার হুমকি দেয়। সম্পদ হরণ করতে সন্তানরা অত্যাচারী রূপ ধারণ করেছে। তাকে সহায়তা যারাই এগিয়ে এসেছেন, তাদেরও মামলা দিয়ে নির্যাতন নিপীড়ন করছে।
তিনি জানান, বাবা হিসেবে তিনি কখনো ছেলের মান-সম্মান নষ্ট হোক চাননি। কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সে ছেলেদের রোষানল থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় ও সংবাদ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে বখে যাওয়া সন্তানরা তাকে হত্যা করতে পারে।
তাই একজন অসহায় পিতার পাশে দাঁড়াতে এবং তাকে সহায়তাকারী সাংবাদিকদের ওপর মিথ্যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা খারিজ করে ভয়ঙ্কর প্রতারক সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত