সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ হারা পাশা প্রার্থী হচ্ছেন 'তৃণমূল বিএনপির'
প্রকাশের তারিখ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করার কারণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে সাধারণ সদস্য পদ পর্যন্ত হারানো সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী এবার দলকে 'গুডবাই' জানিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শ্যামল সিলেটের সাথে আলাপকালে জানালেন।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এর আগে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৫১(১) ধারা মোতাবেক দলের সভাপতি নির্বাহী ক্ষমতাবলে এই সাধারণ সদস্য পদসহ সকল পদ স্থগিত করে জমিয়ত।
তার পদ স্থগিতের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জমিয়ত এবং ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন সাবেক এই সাংসদ।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষ লাইনটি ছিল এরূপ-‘গুডবাই প্রাণের জমিয়ত’।
তার পুরো স্ট্যাটাসটি হলো-''দেশ ও বিদেশের লাখো শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আমার অন্তর জুড়ানো বক্তব্য হলো -- আমাকে দল থেকে ঠেলে দেয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। কারণ আমাকে যে দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হলো এই দোষে স্থায়ী কমিটির কমপক্ষে চারজন সদস্য সম্পৃক্ত। অথচ আমার সদস্য পদ স্থগিত করার আগে আমাকে টেলিফোনে হলেও কথা বলতে পারতেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও দেয়া হলো না।
আফসোসের বিষয় হলো জমিয়ত করতে গিয়ে জীবন যৌবন হারালাম-- পরিবারকেও সময় দিতে পারলামনা। আমার সখের সিলেটের অভিজাত এলাকা উপশহরের দুটি বাসা এবং মধুবন মার্কেটের দোকানটিও বিক্রি করলাম। দুঃখ নেই, আপনারা ভালো থাকুন। তবে বিশ্বাস করি ষড়যন্ত্রকারীরা এই দুনিয়ায়ই লাঞ্চনার জিন্দেগী উপভোগ করবে।
বিগত চল্লিশ বছর থেকে যাদের সাথে চলাফেরা করেছি-- সকলের কাছে মাফ চাই।
শেষ কথা হলো আমি সাবেক মন্ত্রী জমিয়তের গর্বের প্রতীক মুফতী ওয়াক্কাস রহ. এর মতো ধৈর্য আমার নেই। আমি ফকিরের ও ছেলে নই-- ইনশাআল্লাহ নির্বাচনের পর মাঠে দেখা হবে।
গুড বাই প্রাণের জমিয়ত।''
শ্যামল সিলেটের সাথে আলাপকালে শাহীনূর পাশা চৌধুরী বলেন, আমি নির্বাচনমুখী। নির্বাচনের প্রস্তুতি আমি নিচ্ছি। কোনদল থেকে নির্বাচনে আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হওয়ার আশা করছি।
এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী আরও বলেন, “জমিয়তে আসা কতিপয় বসন্তের কোকিল ও সিলেট বিদ্বেষী একটি চক্র ২০১৭ সাল থেকে দলে আমাকে কোণঠাসা করে রেখেছিলো। তাদের চক্রান্তই আমাকে পদত্যাগের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমাকে যে দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হলো, একই দোষে দলের স্থায়ী কমিটির কমপক্ষে চারজন সদস্য সম্পৃক্ত। অথচ আমার সদস্যপদ স্থগিত করার আগে টেলিফোনেও একবার আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে দলের জন্য জীবনযৌবন, ধনসম্পদ সব হারালাম, সেই দল শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে অবিচার করলো।”
কারা ছিলেন একই দোষে দোষী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দু-একদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে সব জানাবো।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানান।
জানতে চাইলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দি বলেন, শাহীনূর পাশার এই অভিযোগ শুধু অসত্যই নয়, হাস্যকরও বটে। মানুষ যখন নৈতিকভাবে পরাজিত হয়, তখন আবোলতাবোল কথা বলে। দলের বিরুদ্ধে তার এহেন কথাবার্তা তার নৈতিক পরাজয়েরই আরেকটি প্রমাণ।”
তিনি বলেন, ‘শাহীনূর পাশার বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলে তার সকল পদপদবী স্থগিত করা হয়েছে, তাকে বহিস্কার বরা হয় হয়নি। কোনো কোনো মাডিয়ায় এসেছে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে, এটা সত্য নয়। দলীয় প্যাডে যা বলা হয়েছে, এটাই সত্য।’
গত বৃহস্পতিবার গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান ইসলামপন্থী নয়টি দলের ১৪ নেতা। তাদের মধ্যে শাহীনূর পাশা চৌধুরীও ছিলেন। এর একদিন পর গত শুক্রবার শাহীনূর পাশার দল জমিয়ত তার সদস্যপদ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। দলটি নীতিগতভাবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত