রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জ- ২ আসন: কে হচ্ছেন সাংসদ
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এক কিংবদন্তি রাজনীতিকের নাম। দেশ-বিদেশে একনামে পরিচিত প্রয়াত এ নেতা তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই-শাল্লাকে সারাদেশে পরিচিতি এনে দিয়েছেন।
এলাকার জনগণও সুরঞ্জিত ও তার পরিবারকে দু’হাত ভরে দিতে কার্পণ্য করেননি। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সাতবার এমপি নির্বাচিত হন সুরঞ্জিত। ২০১৭ সালে তার মৃত্যুর পর স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা এ আসন থেকে দুবার এমপি নির্বাচিত হন।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে জাতীয় সংসদে এ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেন পরিবার। তবে কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারেননি। জয়া সেনগুপ্তা নেতৃত্বে আসার পর দলীয় কোন্দল মারাত্মক রুপ ধারণ করে। গেল বছরের ১৪ নভেম্বর দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়। খেসারত হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি জয়া সেনগুপ্তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।
এবার এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আলআমিনকে। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেন। সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঁচি মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেনবর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তা। এ আসনে গণতন্ত্রী পার্টির অধ্যক্ষ মিহির চন্দ্র দাস কবুতর প্রতীকে ও সতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে জয়া সেনগুপ্তা ও আলআমিন চৌধুরীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে এমনটাই বলছেন ভোটাররা।
একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, এ আসনের বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক জয়-পরাজয় নির্ধারণে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। তবে বিএনপি ভোট বর্জন করায় তাদের ভোট টানতে পারেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯৬ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগে যোগদানের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের মনোনয়ন সেন পরিবারের দখলে ছিল।
এবার সেন পরিবারকে টেক্কা দিয়ে নৌকা প্রতীক এনে চমক দেখান আলআমিন। মনোনয়ন পাবার পর সেন পরিবারের ঘনিষ্ট দিরাই ও শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা আলআমিন শিবিরে যোগ দেওয়ায় চমকে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদ ছইল মিয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ মিয়া, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান এওর, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট অবিরাম তালুকদার, পরিতোষ রায়, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহন চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রিপা সিনহা, শাল্লা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুবল দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু লেইছ চৌধুরী, বিধান চন্দ্র দাস, শাল্লা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট দীপু রঞ্জন দাস উল্লেখযোগ্য। এসব নেতাদের মধ্যে মোশাররফ মিয়া, রঞ্জন রায় ও মোহন চৌধুরীর সাথে সুরঞ্জিতের মৃত্যুর পর বর্তমান এমপির দুরত্ব দেখা দেয়। দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ।
অন্যরা জয়া সেনগুপ্তার প্রতি অনুগত হয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে বেশীরভাগ নেতাদের কাছে টেনে সব হিসাব উলট-পালট করে দিয়েছেন আলআমিন চৌধুরী। অপরদিকে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের (ঘোষিত ২ সদস্য) সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, সাবেক সহসভাপতি সিরাজ উদ দৌলা তালুকদার, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ^জিৎ রায়, প্যানেল মেয়র লিটন রায় জয়া সেনগুপ্তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন বলেন, দিরাই শাল্লার নামের আগে আজও অবহেলিত শব্দটি ব্যবহার হয়। প্রায় অর্ধশতাব্দি একটি পরিবারকে দিরাই শাল্লাবাসী ভোট দিয়েছে। বিনিময়ে কিছুই পায়নি।
স্বাধীনতার ৫৩ বছরে শাল্লা উপজেলা সদর সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসেনি। ইউনিয়নগুলোর সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠেনি। শিক্ষা, চিকিৎসায় আমরা পিছিয়ে। সুরঞ্জিত বাবুর মৃত্যুর পর উনার স্ত্রী আসলেন। তিনিও ব্যর্থ। দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সিরাজ উদ দৌলা তালুকদার বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাই শাল্লার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে ছিলেন। উনার প্রয়ানের পর তার সহধর্মিনী জয়া সেনগুপ্তা এ এলাকার অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন। আজ যে কোনো কারণেই হোক জয়া সেনগুপ্তা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাননি।
তবে দিরাই শাল্লার মানুষ তার সঙ্গেই আছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আলআমিন বলেন, দিরাই শাল্লায় কোন ব্যক্তি কিংবা পরিবারের নিজস্ব ভোটব্যাংক নেই।
এখানে আওয়ামী লীগের ভোট রয়েছে। ইনশাআল্লাহ দিরাই শাল্লার মানুষ ৭ তারিখে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের ধারা সূচনা করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তা ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত