সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

জিন্দাবাজারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা



জিন্দাবাজারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা

কোনো রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়াই চলছে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজর সরকারি বিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ কাজ। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপদে রাখতে সাবেক শিক্ষকদের দুশ্চিন্তা পোহালেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবগত নয় বলে জানান। এ নিয়ে অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরজমিন দেখা যায়, গত বছর শুরু হওয়া নতুন স্কুল ভবনের নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কারও নজরে পড়ছে না এ অব্যবস্থাপনা। সামান্য খরচ বাঁচাতে গিয়ে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতের অবগত করলেও এতোদিনেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে চির মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের

শ্যামল সিলেটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন থেকে নব নির্মিতব্য ভবনের দূরত্ব মাত্র ২০ ফুট। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ প্রতিদিন প্রায় শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং অভিভাবককের উপস্থিতি ঘটে এ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। দুপুর ১২ টা ও বিকেল ৪ টায় বিদ্যালয় ছুটির সময় দুই শিফটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ ৫শ'র অধিক সমাগম হয়।

এছাড়াও মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছুটোছুটি করেন। নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় ওই সময় দুর্ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা শুধু নয়, শিক্ষকরা রয়েছেন আতঙ্কে। দায়িত্বশীলদের এমন দায়িত্বহীন আচরনে হতাশা প্রকাশ করেছেন সরকারি কিন্ডার

গার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার চৌধুরী। তিনি শ্যামল সিলেটকে বলেন, বর্তমানে যেভাবে ভবনটি নির্মিত হচ্ছে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবন নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তদের উচিৎ ছিল শুরু থেকে নিয়ম অনুসারে নিরাপত্তা বেষ্টনিসহ সকল প্রকার নিরাপত্তা আইন মেনে চলা। কেননা দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হলে ক্ষতিপূরণ দিয়েতো সেই প্রাণ ফেরানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সব সময় শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ে আগত অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি। কেননা নিরাপত্তাহীনভাবে ভবন নির্মাণ করায় যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করবো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সিলেট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমদ শ্যামল সিলেটকে বলেন, যে কারও জীবনই আমাদের কাছে মূল্যবান। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অবশ্যই নির্মাণাকারী প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি অবগত করবো।

এলজিইডি সিলেট সদর উপজেলা প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান বলেন, যেভাবে কাজ চলমান আছে সেই অনুপাতে নিরাপত্তা ঠিক আছে। তারপরও আমরা আরো সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় অবশ্যই ঠিকাদারকে নিতে হবে। কেননা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করার দায়িত্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শামিম আহমদ শ্যামল সিলেটকে বলেন, আমরা সতর্কতার সাথে কাজ করছি, যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। এলজিইডি কর্তৃক আমাদেরকে নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা কোন অর্থ দেয়া হয়নি।

এছাড়া কি ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে সেই বিষয়েও কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। যদিও বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শেড ও নেটসহ নিরাপত্তা ব্যয় এলজিইডি বহন করে। কিন্তু আমাদেরকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জন্য কোন অর্থ দেওয়া হয়নি। তবুও আমরা চেষ্টা করবো যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে।

সিসিকের ১৪নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলজিইডি সরকারের আলাদা প্রতিষ্ঠান। এখানে আমাদের কোন দায় নেই। এখন তারা যদি নিরাপত্তা আইন অমান্য করে সেটার দায় সিসিকের আছে কিনা আমার জানা নেই। সিসিকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আমাদের করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি কিন্ডার গার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৬৫৪ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭টি শ্রেণি কক্ষে রয়েছে পাঠদানের ব্যবস্থা। সকাল ৯ টা থেকে ১২টা এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪ টা এই দুই শিফটে চলে পাঠদান।

তথ্যসূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিন্দাবাজারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫

featured Image

কোনো রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়াই চলছে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজর সরকারি বিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ কাজ। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপদে রাখতে সাবেক শিক্ষকদের দুশ্চিন্তা পোহালেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবগত নয় বলে জানান। এ নিয়ে অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরজমিন দেখা যায়, গত বছর শুরু হওয়া নতুন স্কুল ভবনের নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কারও নজরে পড়ছে না এ অব্যবস্থাপনা। সামান্য খরচ বাঁচাতে গিয়ে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতের অবগত করলেও এতোদিনেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে চির মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের

শ্যামল সিলেটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন থেকে নব নির্মিতব্য ভবনের দূরত্ব মাত্র ২০ ফুট। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ প্রতিদিন প্রায় শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং অভিভাবককের উপস্থিতি ঘটে এ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। দুপুর ১২ টা ও বিকেল ৪ টায় বিদ্যালয় ছুটির সময় দুই শিফটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ ৫শ'র অধিক সমাগম হয়।

এছাড়াও মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছুটোছুটি করেন। নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় ওই সময় দুর্ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা শুধু নয়, শিক্ষকরা রয়েছেন আতঙ্কে। দায়িত্বশীলদের এমন দায়িত্বহীন আচরনে হতাশা প্রকাশ করেছেন সরকারি কিন্ডার

গার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার চৌধুরী। তিনি শ্যামল সিলেটকে বলেন, বর্তমানে যেভাবে ভবনটি নির্মিত হচ্ছে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবন নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তদের উচিৎ ছিল শুরু থেকে নিয়ম অনুসারে নিরাপত্তা বেষ্টনিসহ সকল প্রকার নিরাপত্তা আইন মেনে চলা। কেননা দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হলে ক্ষতিপূরণ দিয়েতো সেই প্রাণ ফেরানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সব সময় শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ে আগত অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি। কেননা নিরাপত্তাহীনভাবে ভবন নির্মাণ করায় যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করবো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সিলেট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমদ শ্যামল সিলেটকে বলেন, যে কারও জীবনই আমাদের কাছে মূল্যবান। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অবশ্যই নির্মাণাকারী প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি অবগত করবো।

এলজিইডি সিলেট সদর উপজেলা প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান বলেন, যেভাবে কাজ চলমান আছে সেই অনুপাতে নিরাপত্তা ঠিক আছে। তারপরও আমরা আরো সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় অবশ্যই ঠিকাদারকে নিতে হবে। কেননা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করার দায়িত্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শামিম আহমদ শ্যামল সিলেটকে বলেন, আমরা সতর্কতার সাথে কাজ করছি, যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। এলজিইডি কর্তৃক আমাদেরকে নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা কোন অর্থ দেয়া হয়নি।

এছাড়া কি ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে সেই বিষয়েও কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। যদিও বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শেড ও নেটসহ নিরাপত্তা ব্যয় এলজিইডি বহন করে। কিন্তু আমাদেরকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জন্য কোন অর্থ দেওয়া হয়নি। তবুও আমরা চেষ্টা করবো যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে।

সিসিকের ১৪নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলজিইডি সরকারের আলাদা প্রতিষ্ঠান। এখানে আমাদের কোন দায় নেই। এখন তারা যদি নিরাপত্তা আইন অমান্য করে সেটার দায় সিসিকের আছে কিনা আমার জানা নেই। সিসিকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আমাদের করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি কিন্ডার গার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৬৫৪ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭টি শ্রেণি কক্ষে রয়েছে পাঠদানের ব্যবস্থা। সকাল ৯ টা থেকে ১২টা এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪ টা এই দুই শিফটে চলে পাঠদান।

তথ্যসূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
জিন্দাবাজারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা
0:00 0:00
1.0x