হাফেজ মুহসিনুল ইসলাম। দীর্ঘ ৯বছর থেকে রমজান মাসে তারাবির নামাজে ইমামতি করে আসছেন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের মাস্টারবাড়িতে মাওলানা ফখরুদ্দিনের ঘরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। অপর দুই ভাইও হাফেজে কুরআন। বর্তমানে হাছননগর সুলতানপুরের স্থায়ী বাসিন্দা।
হাফেজ মুহসিনুল ইসলাম সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ জামে মসজিদে একবছর, ওয়েজখালী জামে মসজিদে একবছর, বিসিক শিল্পনগরী জামে মসজিদে দুই বছর, সুনামগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল জামে মসজিদে এবছর নিয়ে পাঁচবছর তারাবির নামাজে অত্যন্ত সুনামের সাথে ইমামতি করছেন।
পবিত্র রমাজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। হেরা গুহায় রবের ধ্যানে মগ্ন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ঠিক সেই মুহুর্তে মানবতার মুক্তির বার্তা ও পথপ্রদর্শনের গাইডলাইনের রূপরেখা হিসেবে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচখানা আয়াত নিয়ে নবীর কাছে আসলেন ওহীর বার্তাবাহক ফেরেস্তা হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম। এই হেরা গুহা থেকে বিশ্ব মানবতার পথের দিশারী, ঐশীগ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের শুভসূচনা হলো।
কিন্তু কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোনো মিথ্যা এর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। না এর সম্মুখ থেকে না পেছন থেকে। (সূরা হা মীম সাজদাহ: ৪২)। মূলত আল্লাহ তাআলা নিজেই কোরআন হেফাজত ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বলেছেন: তোমরা আল্লাহর রজ্জু (অর্থাৎ এই কোরআন) মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)।
কুরআনকে বক্ষে ধারণ করে যুগযুগ ধরে মুসলমানরা হাফেজ হচ্ছেন। কুরআন নাজিলের মাস রমজানে এর চর্চা যেনো বাকি ১১মাসের তুলনায় বেড়ে যায় দ্বীগুন। মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজের মাধ্যমে খতমে কুরআনের চর্চা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনপ্রমী হতে উৎসাহিত করে।
রোজায় কুরআনের সুর বাঁজে মুমিনের ঘরে ঘরে। তারাবির নামাযে পঠিত হয় কুরআন। পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বণীত ঞয় ঐশীবাণী মহাগ্রন্থ কুরআনের বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।
হাফেজ মুহসিনুল ইসলাম রাজধানী ঢাকার সুনামখ্যাত অসংখ্য হাফেজের উস্তাদ হাফেজ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক হাফিযাহুল্লা'র হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান ‘রওজাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসা’ থেকে হিফজ সম্পন্ন করেন। তিনি কওমী মাদরাসার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ দ্বীনি সিনিয়র আলিয়া মাদরাসায় আলিম ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তারাবির নামাজে ইমামতির অনুভূতি জানতে চাইলে হাফেজ মুহসিনুল ইসলাম বলেন, পবিত্র কুরআন পড়ি ও পড়ে শোনাই। প্রচণ্ড ভালা লাগা কাজ করে। অন্তরে প্রশান্তি মিলে। পবিত্র কুরআন আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের উত্তম মাধ্যম। যা মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর ভালোবাসা দিয়ে প্রশান্ত করে দেয়। তারাবির নামাজের পরে অনেকেই এসে মোসাফাহা ও মোয়ানাকা তথা কুশল বিনিময় করেন এই অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে মনে আনন্দ লাগে। এই ভালোবাসা নিছক আল্লাহর জন্য, যা অঢেল সম্পদের মাধ্যমেও অর্জন করা কোনো সময় সম্ভব হয়না।
তিনি বলেন, সকল ভাইবোনকে এতটুকু বার্তা দিতে চাই যে- মুমিনের জীবন তো আবর্তিত হবে কুরআনকে ঘিরে। কুরআন থেকে আলো গ্রহণ করবে। সে আলোতে পথ দেখবে। তবেইতো গন্তব্যের দেখা মিলবে!
মতামত