শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আযহা



ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আযহা

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর, মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা শনিবার।হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। রেজায়ে মাওলার জন্য হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর সর্বোচ্চ কুরবানি তথা ত্যাগ স্বীকারের অনুপম আদর্শ অনুসরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই ঈদে কোরবানি দেন। পশু কোরবানিই এই ঈদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা। 'আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।'-সূরা হজ্ব হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসাসহ মনের পশুত্বকে পরাভূত করার শিক্ষা নিয়ে আসে ঈদুল আযহা, যা কুরবানির ঈদ হিসেবেও আমাদের কাছে পরিচিত। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শত ভোগান্তি সয়ে হলেও সিলেটসহ বড় শহরের মানুষ ফিরছে গ্রামের বাড়িতে স্বজনের কাছে। এরই মধ্যে সিলেট অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। ঈদের আগে কুরবানির পশু কেনার পর তার পরিচর্যা করার মাধ্যমে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, সিলেটসহ সারা দেশেই তা দৃশ্যমান। চলছে পশুর খাদ্য, মাংস প্রস্তুতের চাটাই, গুঁড়ি, ছুরি, চাপাতিসহ কুরবানির আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনা ও সংগ্রহের পালা। ঈদের দিন ভোরে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে আতর মেখে ঈদগাহে যাবে মানুষ। ঈদুল আযহায় সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম  মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর বৃদ্ধ বয়সে হওয়া প্রাণপ্রিয় ছেলে হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এর পরিবর্তে দুম্বা কুরবানী হয়ে যায়। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর সেই ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ১০ জিলহজ পশু কুরবানি করে থাকেন। ঈদের পরও দুই দিন পশু কুরবানি দেওয়া যায়। ঈদের নামাজের খুতবায় এ ঘটনা উল্লেখ করে কুরবানির তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। কুরবানির পশুর মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, এ বক্তব্যের মাধ্যমে বলা হবে ত্যাগই কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা। ঈদগাহ ও মসজিদে দুই রাকাত নামাজ শেষে সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ তথা সারা বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি করে প্রকাশ করা হবে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা। ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কুরবানি করবেন। ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী মাংস ভাগ করে দেওয়া হয় আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মধ্যে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আযহা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৫

featured Image

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর, মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা শনিবার।হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। রেজায়ে মাওলার জন্য হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর সর্বোচ্চ কুরবানি তথা ত্যাগ স্বীকারের অনুপম আদর্শ অনুসরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই ঈদে কোরবানি দেন। পশু কোরবানিই এই ঈদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা। 'আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।'-সূরা হজ্ব হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসাসহ মনের পশুত্বকে পরাভূত করার শিক্ষা নিয়ে আসে ঈদুল আযহা, যা কুরবানির ঈদ হিসেবেও আমাদের কাছে পরিচিত। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শত ভোগান্তি সয়ে হলেও সিলেটসহ বড় শহরের মানুষ ফিরছে গ্রামের বাড়িতে স্বজনের কাছে। এরই মধ্যে সিলেট অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। ঈদের আগে কুরবানির পশু কেনার পর তার পরিচর্যা করার মাধ্যমে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, সিলেটসহ সারা দেশেই তা দৃশ্যমান। চলছে পশুর খাদ্য, মাংস প্রস্তুতের চাটাই, গুঁড়ি, ছুরি, চাপাতিসহ কুরবানির আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনা ও সংগ্রহের পালা। ঈদের দিন ভোরে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে আতর মেখে ঈদগাহে যাবে মানুষ। ঈদুল আযহায় সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম  মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর বৃদ্ধ বয়সে হওয়া প্রাণপ্রিয় ছেলে হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এর পরিবর্তে দুম্বা কুরবানী হয়ে যায়। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর সেই ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ১০ জিলহজ পশু কুরবানি করে থাকেন। ঈদের পরও দুই দিন পশু কুরবানি দেওয়া যায়। ঈদের নামাজের খুতবায় এ ঘটনা উল্লেখ করে কুরবানির তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। কুরবানির পশুর মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, এ বক্তব্যের মাধ্যমে বলা হবে ত্যাগই কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা। ঈদগাহ ও মসজিদে দুই রাকাত নামাজ শেষে সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ তথা সারা বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি করে প্রকাশ করা হবে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা। ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কুরবানি করবেন। ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী মাংস ভাগ করে দেওয়া হয় আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মধ্যে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪