শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

জনবল সঙ্কট, চিকিৎসা বঞ্চিত রাজনগরের আড়াই লাখ মানুষ



জনবল সঙ্কট, চিকিৎসা বঞ্চিত রাজনগরের আড়াই লাখ মানুষ

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জরিত। যেখানে ২১ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে সেখানে নিয়োজিত রয়েছেন ২ জন চিকিৎসক। তাছাড়া স্যাকমো'র ১১ পদের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন ৩ জন। যে কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ। নামে ৫০ শয্যা, বাস্তবে ১৯ শয্যা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নেই ৭ মাস ধরে। একজন মেডিকেল অফিসার আড়াই লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। শুধু নামেই যেন রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সচেতন মহল মনে করেন মৌলভীবাজার জেলা

সিভিল সার্জনের উদাসিনতায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রাজনগরের মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের শেষ সময়ে এসে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। । ৫০ শয্যার জন্য নির্মিত নতুন ভবন উদ্বোধনের আগেই পুরনো ভবনে ফাটল ধরায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। তরিঘরি করে নব নির্মিত ভবনে রুগি স্থানান্তর করা হয়। সে থেকেই ১৯ শয্যায় চলছে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার মাহমুদ গত ডিসেম্বরে বদলি হন। তিনি এটার বিপক্ষে মামলা

করলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিলেও তিনি যোগদান করতে পারেন নি। ফলে প্রায় ৭ মাস থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ খালি রয়েছে। এতে সীমাহীণ ভোগান্তিতে রয়েছেন হাসপাতালে কর্মকর্তারা। অপর দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাবসেন্টার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলে এমবিবিএস ডাক্তারের পদ রয়েছে ২১টি। উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার ১২টি। আছেন মাত্র ৩ জন। এদিকে ২০১৭ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডাক্তার সুভাশিষ গুপ্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে সংশিষ্টরা জানিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও অদৃশ্য কারণে মন্ত্রনালয় এ পদটি এখনো শূণ্য ঘোষণা করতে পারেনি। এছাড়াও স্যাকমো মুস্তাকুর রহমান পলাশ ৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। হসপিটালটিতে আউটডোরে প্রতিনিদিন গড়ে ৫ শতাধিক রুগি আসেন। কিন্তু ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া ও ডাক্তার অসীম কুমার ছাড়া হসপিটালটিতে আর কোন ডাক্তার নেই। ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকায় সমসময় রোগী দেখতে পারেন না। এতে সীমাহীণ চাপে থাকেন তারা। এছাড়াও ইমারজেন্সিতে একমাত্র স্যকমো পদের মো. সোহেল রানা ও তার সহকর্মীদের উপরই ভরসা রুগীদের। ডাক্তার না থাকায় রুগীদের চাপ তাদেরকেই সামলাতে হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত উপজেলার আড়াই লক্ষাধীক মানুষ। সংশিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠ পর্যায় সহ ১৩৩টি পদের মধ্যে ৪৩টিই এখনো খালি। গাইনি অপারেশন থিয়েটারের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এটিও চালু করা যায়নি। এনেসটিসিয়া ডাক্তার দায়িত্বে রয়েছেন সদর হসপিটালে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জনবল সঙ্কট, চিকিৎসা বঞ্চিত রাজনগরের আড়াই লাখ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৫

featured Image

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জরিত। যেখানে ২১ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে সেখানে নিয়োজিত রয়েছেন ২ জন চিকিৎসক। তাছাড়া স্যাকমো'র ১১ পদের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন ৩ জন। যে কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ। নামে ৫০ শয্যা, বাস্তবে ১৯ শয্যা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নেই ৭ মাস ধরে। একজন মেডিকেল অফিসার আড়াই লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। শুধু নামেই যেন রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সচেতন মহল মনে করেন মৌলভীবাজার জেলা

সিভিল সার্জনের উদাসিনতায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রাজনগরের মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের শেষ সময়ে এসে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। । ৫০ শয্যার জন্য নির্মিত নতুন ভবন উদ্বোধনের আগেই পুরনো ভবনে ফাটল ধরায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। তরিঘরি করে নব নির্মিত ভবনে রুগি স্থানান্তর করা হয়। সে থেকেই ১৯ শয্যায় চলছে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার মাহমুদ গত ডিসেম্বরে বদলি হন। তিনি এটার বিপক্ষে মামলা

করলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিলেও তিনি যোগদান করতে পারেন নি। ফলে প্রায় ৭ মাস থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ খালি রয়েছে। এতে সীমাহীণ ভোগান্তিতে রয়েছেন হাসপাতালে কর্মকর্তারা। অপর দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাবসেন্টার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলে এমবিবিএস ডাক্তারের পদ রয়েছে ২১টি। উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার ১২টি। আছেন মাত্র ৩ জন। এদিকে ২০১৭ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডাক্তার সুভাশিষ গুপ্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে সংশিষ্টরা জানিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও অদৃশ্য কারণে মন্ত্রনালয় এ পদটি এখনো শূণ্য ঘোষণা করতে পারেনি। এছাড়াও স্যাকমো মুস্তাকুর রহমান পলাশ ৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। হসপিটালটিতে আউটডোরে প্রতিনিদিন গড়ে ৫ শতাধিক রুগি আসেন। কিন্তু ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া ও ডাক্তার অসীম কুমার ছাড়া হসপিটালটিতে আর কোন ডাক্তার নেই। ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকায় সমসময় রোগী দেখতে পারেন না। এতে সীমাহীণ চাপে থাকেন তারা। এছাড়াও ইমারজেন্সিতে একমাত্র স্যকমো পদের মো. সোহেল রানা ও তার সহকর্মীদের উপরই ভরসা রুগীদের। ডাক্তার না থাকায় রুগীদের চাপ তাদেরকেই সামলাতে হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত উপজেলার আড়াই লক্ষাধীক মানুষ। সংশিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠ পর্যায় সহ ১৩৩টি পদের মধ্যে ৪৩টিই এখনো খালি। গাইনি অপারেশন থিয়েটারের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এটিও চালু করা যায়নি। এনেসটিসিয়া ডাক্তার দায়িত্বে রয়েছেন সদর হসপিটালে।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪