মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাও ইউনিয়নের শতবর্ষী গ্রাম মোবারকপুরের হাজারো বাসিন্দা একটি রাস্তার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা এই গ্রামটি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বয়ে গেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের আক্ষেপ, রাজনৈতিক ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়ে গ্রামের অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়কটি আজও পাকাকরণ হয়নি, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
শুক্রবার সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৪০০ পরিবারের হাজারো নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস এই মোবারকপুরে। কৃষিকাজ ও দিনমজুরিই তাদের প্রধান জীবিকা। গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আঞ্চলিক প্রধান সড়কের সঙ্গে গ্রামের তিনটি সংযোগ সড়ক থাকলেও দুটিই কাঁচা। বিশেষ করে, 'মোবারকপুর প্রাইমারি স্কুল-বনগাঁও সড়ক' নামে পরিচিত রাস্তাটির অবস্থা বেহাল।
স্থানীয় বাসিন্দা মুজাহিদ আলী (৫৩), আব্দুর রাজ্জাক (৬৩), শহিদ মিয়া (৫২) সহ অনেকেই জানান, জেলা পরিষদ থেকে মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার ইটি সলিং করা হলেও গ্রামের মধ্য ও পূর্ব পাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার রাস্তাটি কর্দমাক্ত ও চলাচলের অযোগ্য। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। এতে অসুস্থ রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত এবং মুসল্লিদের মসজিদে যাতায়াতে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় রাস্তাঘাটসহ গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি শুধু স্তাটি শুধু মোবারকপুর নয়, পার্শ্ববর্তী রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের ৫০০-এরঅধিক মানুষের উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান পথ। জনগুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটিকে তাদের ইনভেনটরিভুক্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে এটি আর পাকাকরণ হয়নি। গ্রামবাসীর অভিযোগ, তাদের গ্রাম থেকে কখনো কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হওয়ায় তারা ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তবে, অবহেলিত এই গ্রামে ২০২১ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের এক প্রবাসী পরিবার 'মোবারকপুর শাহী জামে মসজিদ' নামে একটি সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছে, যা ব্যক্তিগত উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি, এই উন্নয়ন বৈষম্যের প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। যদি সত্যিই কোনো বৈষম্য হয়ে থাকে, তবে তা অচিরেই দূর করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত