রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

জাপার প্রার্থী ঘোষণায় চাপে জামায়াত



জাপার প্রার্থী ঘোষণায় চাপে জামায়াত

এতদিন দাপটের সঙ্গে প্রচার চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে প্রচারে অনেকটা এগিয়ে যায় তারা। তবে জাতীয় পার্টি সিলেটের ১৫ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় হিসাব নিকাশ অনেকটা পাল্টে গেছে। এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে জাতীয় পার্টি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই নিজেদের শক্তির জানান দেয় জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে অনেকটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে জামায়াত। তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে বৃহৎ দল বিএনপি। এ অব¯’ায় গত কয়েকদিন ধরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে জাতীয় পার্টির (এরশাদ)। ইতিমধ্যে সারাদেশে ২৪৩ টি আসনে তারা প্রাথী ঘোষণা করেছে। সিলেটের ১৯ আসনের মধ্যে ১৫ টি আসমনেও তারা প্রার্থী দিয়েছে এসব প্রার্থীদের কেউ কেউ সাবেক এমপি আবার কেউ কেউ বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। নির্বাচনের মাঠে তাদের আলাদা গ্রহণযোগ্যতাও আছে। সম্প্রতি জাতীয় পার্টি মাথা তুলে দাড়াতে শুরু করেছে। এমনকি কিছু কিছু আসনে প্রভাবশালী বিএনপির প্রাথীদেরকে হুমকিতে ফেলতে পারেন এসব প্রার্থীরা।

তপশিল ঘোষণার আগে যেখানে বিএনপি ও জামায়াত দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করে তখনও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তপশিল ঘোষনার পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে দলটি। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা যখন মাঠে দৌঁড়াচ্ছেন ঠিক সেই মুহুর্তে মনোনয়নপত্র দাখিলের কয়েক দিন আগ থেকে প্রার্থী ঘোষনা শুরু করে জাতীয় পার্টি। গত কয়েক দিনে ১৫ টি আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। বাকি আসনের প্রার্থীও চুড়ান্ত করা হয়েছে। অপরদিকে জাপার ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অপর অংশ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে।

জাপার লাঙ্গল প্রতীকে যারা সিলেটে মনোনয়ন পেয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হুদা হিমেল; সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মো. জাহাঙ্গীর আলম; সিলেট-১ আসনে মকসুদ ইবনে আজিজ লামা; সিলেট-২ আসনে মো. জয়নুল আবেদিন জয়নাল; সিলেট-৩ আসনে আলহাজ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক; সিলেট-৪ আসনে মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম; সিলেট-৫ আসনে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ; সিলেট-৬ আসনে মো. আব্দুন নূর।

মৌলভীবাজার-১ আসনে আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন; মৌলভীবাজার-২ আসনে মো. আব্দুল মালিক; মৌলভীবাজার-৩ আসনে সৈয়দ নুর“ল হক; মৌলভীবাজার-৪ আসনে মো. জরিফ হোসেন; হবিগঞ্জ-২ আসনে আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী; হবিগঞ্জ-৩ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বুলবুল এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন। তবে সুনামগঞ্জ-১, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৩ ও হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তাদের মনোনয়ন পাওয়ার পর নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। এতদিন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর ভোটের হিসেবে মিলালেও এখন জাপা প্রার্থী দেওয়ায় তাদের ভোটের হিসেব কষতে হচ্ছে অপর প্রার্থীদের। অনেকে মনে করছেন, জাপা প্রার্থীরা এবার তাদের আগের জোটের শরীক দল আওয়ামী লীগসহ অন্যদের ভোটের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। এমনকি একাধিক জাপা প্রার্থী জানিয়েছেন- যেহেতু আওয়ামী লীগের সাথে তারা সরকারে ছিলেন, সেই কারণে আওয়ামী লীগ তাদের ভোট দেবে। জাপার এই হিসেবে ঠিক থাকলেও অনেক আসনে ভোটের অঙ্ক বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এক সময়ে সিলেট জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। দলের চেয়ারম্যান হুসেই মুহম্মদ এরশাদ সিলেটকে দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে মনে করতেন। সিলেট-১ আসনে ১৯৮৮ সালে, সিলেট-২ আসনে ১৯৯১ সালে, সিলেট-৩ আসনে ১৯৯৬ ও ১৯৯১ সালে এবং সিলেট-৬ আসনে ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনে জাপা প্রার্থীরা সুবিধা করতে পারেন নি। তবে সবর্শেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দল হিসেবে সিলেট-২ আসনে জয়লাভ করেন জাপার প্রার্থী। দলে বিভক্তি ও কর্মী সংকটের কারণে জাপা সিলেটে অবস্থান হারায়। এবারে নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দলটি প্রার্থীতা ঘোষনা শুরু করে। গত কয়েক দিনে সিলেটের ১৫ আসনে তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দেন জিএম কাদের।

এরমধ্যে সিলেট-১ আসনে সাবেক এমপি ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, সিলেট-৩ আসনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, সিলেট-৪ আসনে জেলা ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান ডালিম ও সিলেট-৫ আসনে সাবেক জেলা সভাপতি সাব্বির আহমদ।

প্রার্থী ও ভোট বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, সিলেট-৪ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি ছিল বিএনপি ওসমর্থকদের মধ্যে। সেখানে বিএনপি প্রার্থী দেয় সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আর জামায়াত দেয় স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনকে। এ অবস্থায় জয়নালের এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান ডালিম প্রার্থী হচ্ছেন জাপা থেকে। দলীয় ভোট ছাড়াও আঞ্চলিক ভোট প্রভাব ফেলবেন ডালিম। তিনি সমকালকে জানান, জমিয়ত থেকে কেউ নির্বাচন না করলে সেই ভোট তিনি পাবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট চাইবেন তিনি। সিলেট-৩ আসনে আতিকুর রহমান এর আগেও নির্বাচন করেন। জয়লাভ না করলেও তিনি ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে ও ২০০৮ সালে জাপা থেকে নির্বাচন করে ভালো ভোট পান। সিলেট-৫ আসনে ২০১৪ সালে জাপা থেকে সেলিম উদ্দিন বীনা ভোটে এমপি হন। তিনি এবার সিলেট-৫ ও সিলেট-৫ দুটি আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। যদিও তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

জাপা প্রার্থী প্রসঙ্গে বিএনপির এক নেতা, প্রত্যেক দল তার ভোট পাবে। জাপা প্রার্থী দেওয়ায় আঞ্চলিক ভোটে প্রভাব পড়েত পারে।

সিলেট-৫ আসনে জাপার প্রার্থী ও জেলা সভাপতি সাব্বির আহমদ বলেন, আমরা প্রার্থী ঘোষনা নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও মাঠে কাজ করছি। মনোনয়ন দাখিলের পর সবাই মাঠে নামবেন। আওয়ামী লীগের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপা তার শক্তি নিয়ে কাজ করবে। তারা ভোট দেবে কি না সেটা তাদের বিষয়।

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী মনে করেন জাপা প্রার্থী দিলে তাদের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির একাধিক অংশ রয়েছে, তন্মধ্যে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশটি ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে নির্বাচন করে আসছে। জাপার এই অংশ সাবেক আওয়ামী লীগের মহাজোট এবং সরকারের অংশ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারের তরফ থেকে নানা বিপত্তির মধ্যে রয়েছে। সরকার যেকোনো আলোচনায় তাদেরকে ডাকে না, এবং তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

তবে পার্টি নেতারা আশা করছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদেরকে নির্বাচনে সুযোগ করে দেবে। আবার সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টি বলছে, ভোটের মাঠে সব দলের ‘সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে’ নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারে দলটি।

২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময়ই এদেশের জনগণের রায়ের উপর শ্রদ্ধাশীল। জনগণের যে কোনো রায় আমরা অতীতেও মেনে নিয়েছি। জাতীয় পার্টি সব সময় নির্বাচনমুখী দল। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার পূর্বশর্ত হল আইনশৃঙ্খলা পরি¯ি’তি ¯ি’তিশীল রেখে সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। এটা করার দায়িত্ব অন্তর্র্বতী সরকারের। কিš‘ আমরা আশঙ্কাজনকভাবে দেখতে পা”িছ যে সরকার যথাযথভাবে এই কাজ করতে ব্যর্থ হ”েছ।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা সকলের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। অনেক আসনেই একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে আমরা প্রার্থী মনোনয়নে হিমশিম খা”িছলাম। যাচাই-বাছাই শেষে আজ আমরা আমাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছি। আমরা এখনো আশা করি যে, অন্তর্র্বতী সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ দিবেন।

মূল রিপোর্ট: দৈনিক সিলেটের মানচিত্র

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাপার প্রার্থী ঘোষণায় চাপে জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

এতদিন দাপটের সঙ্গে প্রচার চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে প্রচারে অনেকটা এগিয়ে যায় তারা। তবে জাতীয় পার্টি সিলেটের ১৫ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় হিসাব নিকাশ অনেকটা পাল্টে গেছে। এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে জাতীয় পার্টি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই নিজেদের শক্তির জানান দেয় জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে অনেকটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে জামায়াত। তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে বৃহৎ দল বিএনপি। এ অব¯’ায় গত কয়েকদিন ধরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে জাতীয় পার্টির (এরশাদ)। ইতিমধ্যে সারাদেশে ২৪৩ টি আসনে তারা প্রাথী ঘোষণা করেছে। সিলেটের ১৯ আসনের মধ্যে ১৫ টি আসমনেও তারা প্রার্থী দিয়েছে এসব প্রার্থীদের কেউ কেউ সাবেক এমপি আবার কেউ কেউ বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। নির্বাচনের মাঠে তাদের আলাদা গ্রহণযোগ্যতাও আছে। সম্প্রতি জাতীয় পার্টি মাথা তুলে দাড়াতে শুরু করেছে। এমনকি কিছু কিছু আসনে প্রভাবশালী বিএনপির প্রাথীদেরকে হুমকিতে ফেলতে পারেন এসব প্রার্থীরা।

তপশিল ঘোষণার আগে যেখানে বিএনপি ও জামায়াত দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করে তখনও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তপশিল ঘোষনার পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে দলটি। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা যখন মাঠে দৌঁড়াচ্ছেন ঠিক সেই মুহুর্তে মনোনয়নপত্র দাখিলের কয়েক দিন আগ থেকে প্রার্থী ঘোষনা শুরু করে জাতীয় পার্টি। গত কয়েক দিনে ১৫ টি আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। বাকি আসনের প্রার্থীও চুড়ান্ত করা হয়েছে। অপরদিকে জাপার ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অপর অংশ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে।

জাপার লাঙ্গল প্রতীকে যারা সিলেটে মনোনয়ন পেয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হুদা হিমেল; সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মো. জাহাঙ্গীর আলম; সিলেট-১ আসনে মকসুদ ইবনে আজিজ লামা; সিলেট-২ আসনে মো. জয়নুল আবেদিন জয়নাল; সিলেট-৩ আসনে আলহাজ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক; সিলেট-৪ আসনে মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম; সিলেট-৫ আসনে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খালেদ; সিলেট-৬ আসনে মো. আব্দুন নূর।

মৌলভীবাজার-১ আসনে আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন; মৌলভীবাজার-২ আসনে মো. আব্দুল মালিক; মৌলভীবাজার-৩ আসনে সৈয়দ নুর“ল হক; মৌলভীবাজার-৪ আসনে মো. জরিফ হোসেন; হবিগঞ্জ-২ আসনে আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী; হবিগঞ্জ-৩ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বুলবুল এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন। তবে সুনামগঞ্জ-১, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৩ ও হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তাদের মনোনয়ন পাওয়ার পর নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। এতদিন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর ভোটের হিসেবে মিলালেও এখন জাপা প্রার্থী দেওয়ায় তাদের ভোটের হিসেব কষতে হচ্ছে অপর প্রার্থীদের। অনেকে মনে করছেন, জাপা প্রার্থীরা এবার তাদের আগের জোটের শরীক দল আওয়ামী লীগসহ অন্যদের ভোটের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। এমনকি একাধিক জাপা প্রার্থী জানিয়েছেন- যেহেতু আওয়ামী লীগের সাথে তারা সরকারে ছিলেন, সেই কারণে আওয়ামী লীগ তাদের ভোট দেবে। জাপার এই হিসেবে ঠিক থাকলেও অনেক আসনে ভোটের অঙ্ক বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এক সময়ে সিলেট জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। দলের চেয়ারম্যান হুসেই মুহম্মদ এরশাদ সিলেটকে দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে মনে করতেন। সিলেট-১ আসনে ১৯৮৮ সালে, সিলেট-২ আসনে ১৯৯১ সালে, সিলেট-৩ আসনে ১৯৯৬ ও ১৯৯১ সালে এবং সিলেট-৬ আসনে ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনে জাপা প্রার্থীরা সুবিধা করতে পারেন নি। তবে সবর্শেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দল হিসেবে সিলেট-২ আসনে জয়লাভ করেন জাপার প্রার্থী। দলে বিভক্তি ও কর্মী সংকটের কারণে জাপা সিলেটে অবস্থান হারায়। এবারে নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দলটি প্রার্থীতা ঘোষনা শুরু করে। গত কয়েক দিনে সিলেটের ১৫ আসনে তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দেন জিএম কাদের।

এরমধ্যে সিলেট-১ আসনে সাবেক এমপি ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, সিলেট-৩ আসনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, সিলেট-৪ আসনে জেলা ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান ডালিম ও সিলেট-৫ আসনে সাবেক জেলা সভাপতি সাব্বির আহমদ।

প্রার্থী ও ভোট বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, সিলেট-৪ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি ছিল বিএনপি ওসমর্থকদের মধ্যে। সেখানে বিএনপি প্রার্থী দেয় সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আর জামায়াত দেয় স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনকে। এ অবস্থায় জয়নালের এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান ডালিম প্রার্থী হচ্ছেন জাপা থেকে। দলীয় ভোট ছাড়াও আঞ্চলিক ভোট প্রভাব ফেলবেন ডালিম। তিনি সমকালকে জানান, জমিয়ত থেকে কেউ নির্বাচন না করলে সেই ভোট তিনি পাবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট চাইবেন তিনি। সিলেট-৩ আসনে আতিকুর রহমান এর আগেও নির্বাচন করেন। জয়লাভ না করলেও তিনি ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে ও ২০০৮ সালে জাপা থেকে নির্বাচন করে ভালো ভোট পান। সিলেট-৫ আসনে ২০১৪ সালে জাপা থেকে সেলিম উদ্দিন বীনা ভোটে এমপি হন। তিনি এবার সিলেট-৫ ও সিলেট-৫ দুটি আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। যদিও তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

জাপা প্রার্থী প্রসঙ্গে বিএনপির এক নেতা, প্রত্যেক দল তার ভোট পাবে। জাপা প্রার্থী দেওয়ায় আঞ্চলিক ভোটে প্রভাব পড়েত পারে।

সিলেট-৫ আসনে জাপার প্রার্থী ও জেলা সভাপতি সাব্বির আহমদ বলেন, আমরা প্রার্থী ঘোষনা নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও মাঠে কাজ করছি। মনোনয়ন দাখিলের পর সবাই মাঠে নামবেন। আওয়ামী লীগের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপা তার শক্তি নিয়ে কাজ করবে। তারা ভোট দেবে কি না সেটা তাদের বিষয়।

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী মনে করেন জাপা প্রার্থী দিলে তাদের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির একাধিক অংশ রয়েছে, তন্মধ্যে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশটি ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে নির্বাচন করে আসছে। জাপার এই অংশ সাবেক আওয়ামী লীগের মহাজোট এবং সরকারের অংশ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারের তরফ থেকে নানা বিপত্তির মধ্যে রয়েছে। সরকার যেকোনো আলোচনায় তাদেরকে ডাকে না, এবং তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

তবে পার্টি নেতারা আশা করছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদেরকে নির্বাচনে সুযোগ করে দেবে। আবার সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টি বলছে, ভোটের মাঠে সব দলের ‘সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে’ নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারে দলটি।

২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময়ই এদেশের জনগণের রায়ের উপর শ্রদ্ধাশীল। জনগণের যে কোনো রায় আমরা অতীতেও মেনে নিয়েছি। জাতীয় পার্টি সব সময় নির্বাচনমুখী দল। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার পূর্বশর্ত হল আইনশৃঙ্খলা পরি¯ি’তি ¯ি’তিশীল রেখে সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। এটা করার দায়িত্ব অন্তর্র্বতী সরকারের। কিš‘ আমরা আশঙ্কাজনকভাবে দেখতে পা”িছ যে সরকার যথাযথভাবে এই কাজ করতে ব্যর্থ হ”েছ।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা সকলের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। অনেক আসনেই একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে আমরা প্রার্থী মনোনয়নে হিমশিম খা”িছলাম। যাচাই-বাছাই শেষে আজ আমরা আমাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছি। আমরা এখনো আশা করি যে, অন্তর্র্বতী সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ দিবেন।

মূল রিপোর্ট: দৈনিক সিলেটের মানচিত্র

সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪