শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

টমেটো খেয়ে ১৫ হাতির মৃত্যু



টমেটো খেয়ে ১৫ হাতির মৃত্যু

কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্কের সীমান্তবর্তী কৃষিজমিতে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করা টমেটো খেয়ে অন্তত ১৫টি হাতির করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন দেশটির বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা।

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, মৃত হাতিগুলোর দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষাগার পরীক্ষায় মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক সায়ানাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে চোরশিকার দমন করে সংরক্ষিত এই অঞ্চলে হাতি রক্ষার ক্ষেত্রে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছিল, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি সেখানে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উদ্ধারকৃত হাতিগুলোর মধ্যে ১০টি হাতিকে প্রথমে অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে দুই দিনের মধ্যে সেগুলো মারা যায়। অন্যদিকে বাকি পাঁচটি হাতিকে বনাঞ্চলের বাইরে ইতিমধ্যেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বর্তমানে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছেন, তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পিত অপরাধমূলক বা নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র নেই বলে আপাতত তারা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, হাতিগুলোর খাওয়া এসব বিষাক্ত উপাদান মানবস্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করবে না।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্কের আশেপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত কৃষিকাজ ও আবাদি জমির সম্প্রসারণ ঘটায় খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যেই বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয় ও ফসলি জমিতে চলে আসে হাতির পাল। তাঞ্জানিয়া সীমান্তের কোলঘেঁষে অবস্থিত বিশাল এই আমবোসেলি ইকোসিস্টেম বন্যপ্রাণী ও বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো হাতিদের অভয়ারণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

‘আমবোসেলি ট্রাস্ট ফর এলিফ্যান্টস’-এর ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পুরো আমবোসেলি ইকোসিস্টেমে প্রায় ২,০০০টিরও বেশি হাতি বসবাস করে। সেদিক থেকে হিসাব করলে সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি বন্যপ্রাণী সুরক্ষার জন্য একটি বড় আঘাত।

কেডব্লিউএস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে এই ১৫টি হাতির মৃত্যু ঘটেছে। উদ্ধার করা মৃতদেহের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের হাতি রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই বিষক্রিয়া কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা বয়সের হাতির দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে চোরাশিকার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পর এত বিপুলসংখ্যক হাতির একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। হাতি রক্ষা এবং ফসলি জমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সায়ানাইডযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এখন থেকেই চেষ্টা জোরদার করছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা বিভাগ।

সূত্র: বিবিসি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টমেটো খেয়ে ১৫ হাতির মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্কের সীমান্তবর্তী কৃষিজমিতে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করা টমেটো খেয়ে অন্তত ১৫টি হাতির করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন দেশটির বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা।

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, মৃত হাতিগুলোর দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষাগার পরীক্ষায় মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক সায়ানাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে চোরশিকার দমন করে সংরক্ষিত এই অঞ্চলে হাতি রক্ষার ক্ষেত্রে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছিল, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি সেখানে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উদ্ধারকৃত হাতিগুলোর মধ্যে ১০টি হাতিকে প্রথমে অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে দুই দিনের মধ্যে সেগুলো মারা যায়। অন্যদিকে বাকি পাঁচটি হাতিকে বনাঞ্চলের বাইরে ইতিমধ্যেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বর্তমানে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছেন, তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পিত অপরাধমূলক বা নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র নেই বলে আপাতত তারা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, হাতিগুলোর খাওয়া এসব বিষাক্ত উপাদান মানবস্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করবে না।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত আমবোসেলি ন্যাশনাল পার্কের আশেপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত কৃষিকাজ ও আবাদি জমির সম্প্রসারণ ঘটায় খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যেই বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয় ও ফসলি জমিতে চলে আসে হাতির পাল। তাঞ্জানিয়া সীমান্তের কোলঘেঁষে অবস্থিত বিশাল এই আমবোসেলি ইকোসিস্টেম বন্যপ্রাণী ও বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো হাতিদের অভয়ারণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

‘আমবোসেলি ট্রাস্ট ফর এলিফ্যান্টস’-এর ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পুরো আমবোসেলি ইকোসিস্টেমে প্রায় ২,০০০টিরও বেশি হাতি বসবাস করে। সেদিক থেকে হিসাব করলে সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি বন্যপ্রাণী সুরক্ষার জন্য একটি বড় আঘাত।

কেডব্লিউএস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে এই ১৫টি হাতির মৃত্যু ঘটেছে। উদ্ধার করা মৃতদেহের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের হাতি রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই বিষক্রিয়া কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা বয়সের হাতির দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে চোরাশিকার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পর এত বিপুলসংখ্যক হাতির একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। হাতি রক্ষা এবং ফসলি জমিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সায়ানাইডযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এখন থেকেই চেষ্টা জোরদার করছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা বিভাগ।

সূত্র: বিবিসি


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪