দেশে ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব। ডেঙ্গু ও হামের মতো দুটি মারাত্মক ছোঁয়াচে ও মশাবাহিত রোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে এবং মোট আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বরিশালে ২২৫, চট্টগ্রামে ১৯৭, খুলনায় ১৫৫, রাজশাহীতে ১১১, ময়মনসিংহে ৪৫, রংপুরে ২৮ এবং সিলেট বিভাগে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের নিশ্চিত সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ১০ শিশু।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে—যার মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১,১০১ জন।
বর্তমানে দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে ২৩ হাজার ২১২ জন। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ১ লাখ ৮৫,১১০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।