সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাবে একদিন মৃত্যুহীন থাকার পর নতুন করে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয় মাস বয়সী শিশু রুহুল আমীন মারা যায়। সে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা।
রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারও হাম শনাক্ত না হলেও উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৬ জন রোগী। বর্তমানে বিভাগের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৫০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ জনে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ৪৪২, সুনামগঞ্জে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৮ এবং মৌলভীবাজারে ১৫৮ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১২৬ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৫, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৯, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০, পার্কভিউ মেডিকেলে ১২, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩ ও নর্থ ইস্ট মেডিক্যালে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০৭ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০৫ ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬২ জনসহ অন্যান্য জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও বহু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে সর্বমোট ২০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হামে সিলেটে ৭৯, সুনামগঞ্জে ৭২, হবিগঞ্জে ২৯ ও মৌলভীবাজারে ১৬ জন এবং নিশ্চিত হামে সিলেটে ৪, হবিগঞ্জে ৪, মৌলভীবাজারে ১ ও সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে জেলাওয়ারি মোট মৃতের সংখ্যা—সিলেটে ৮৩, সুনামগঞ্জে ৭৩, হবিগঞ্জে ৩৩ ও মৌলভীবাজারে ১৭ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১০৩ জন।