সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শয়নকক্ষ থেকে সানজিদা বেগম নামের এক মাদরাসাছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
ঘটনাটি উপজেলার সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও (হাজি বাড়ি) গ্রামে ঘটেছে।
অভিযোগ উঠেছে চাচা রবিউল ইসলাম তাকে বালিশ দিয়ে শ্বাস রোধে হত্যা করেছেন বলে।
আজ বুধবার (০৯জুন) বিকেলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও (হাজি বাড়ি) গ্রামের শয়ফুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা বেগম (১৬) প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যায়। রাতের কোনো এক সময় মেয়েটির আপন চাচা রবিউল ইসলাম (৪০) সানজিদার ঘরে প্রবেশ করে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান।
বুধবার ভোরে মেয়েটির নিথরদেহ নিজঘরের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। পরিবারের লোকজন জানান, শয়ফুল ইসলামের চার ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। ওই প্রবাসি নিঃসন্তান হওয়ায় মেয়েটিকে তিনি নিজের মেয়ের মতো মায়া করে সংসারের ভরন পোষণের টাকা মেয়েটির কাছে পাঠাতেন এ নিয়ে ঘাতক ভাইয়ের সাথে কিছু বিরোধ চলছিল। কিছু দিন আগে এসব নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘাতক চাচা তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যান। মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে এ ঘটনা ঘটান মেয়েটির আপনচাচা রবিউল ইসলাম।
নিহত মাদরাসা ছাত্রীর বড় ভাই হাম্মাদ আহমদ বলেন, 'আমাদের ধারণা চাচাই আমার বোনকে হত্যা করে পালিয়েছেন।' তার বোন স্থানীয় একটি মাদসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল বলে তিনি জানান।
নিহতের মাদরাসা ছাত্রীর মা সৈয়দা ছালেহা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'ঘাতক আমার মেয়েকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে।'
ঘটনাস্থল পরিদর্শকারী জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরূদ্ধ করে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছি।
মতামত