সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৩
নতুন বছরের সূচনাতেই দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদটি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। আসছে ফেব্রুয়ারিতেই খোলাসা হবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুই মেয়াদে এ পদে থাকায় তিনি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারছেন না। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সে কারণে খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
আগামী ২৩ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে সংবিধানে। সে অনুযায়ী আগামী ২৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে সময় যত এগিয়ে আসছে এ পদটি নিয়ে আলোচনাও তত বাড়ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। কারণ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে, তিনিই সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী এবং তিনিই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ বর্তমানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপশক্তির দ্বারা সংকট তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। এরই মধ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি ও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আপত্তি তুলেছে।
নির্বাচনের সময় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে দলগুলো। এ পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংকটমুক্ত হওয়া অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একজন দক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে আওয়ামী লীগ।
বিশেষ করে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নতুন রাষ্ট্রপতির সময়ে। সেজন্যই রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি- এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ পদটির জন্য অনেকের নামও শোনা যাচ্ছে। দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আলোচনায় আছেন।
বিশেষ করে আবদুল হামিদ দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর শিরীন শারমিনের নাম আলোচনায় আসে। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার স্পিকার হন। তখন থেকেই এ আলোচনা আছে। নতুন করে আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
এছাড়া রয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রিসভার দুই সদস্য। এছাড়া সাবেক একজন মন্ত্রীও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে পারেন বলে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সদস্যের নামও রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যও।
তবে কে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন এবং কাকে রাষ্ট্রপতি করা হবে- সেটা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একজন নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এবার রাষ্ট্রপতি পদে চমক থাকছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী রাষ্ট্রপতি করতে পারেন বলে ইঙ্গিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে চলতি জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে সংসদ উপনেতা নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি উপনেতা না হলে রাষ্ট্রপতি পদে তাকেও দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
আওয়াম লীগ নেতাদের মতে, সামনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনো সংকট তৈরি হলে সাহসিকতা, দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে যিনি সংকট থেকে উত্তরণে অবস্থান নিতে পারবেন, তেমন কাউকেই এ পদে বসাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক কিছু বিবেচনা করেই রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদটিতে আওয়ামী লীগ কাকে নির্বাচিত করবে তা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। তিনি সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে এই পদে নির্বাচিত করবেন।
তিনি বিশ্বস্ত, দলের আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ ও অনুগত ব্যক্তিকেই বিবেচনা করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। তফসিল ঘোষণাসহ এ নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমানে জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনীত করবে তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কে হবেন- এ নিয়ে আওয়ামী লীগের থিংক-ট্যাংকের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। নতুন বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।
গত ৪ জানুয়ারি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু তিনি (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) দুই মেয়াদ থেকেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আর থাকতে পারেন না। সেহেতু আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি দেখব।’
মো. আবদুল হামিদকে তৃতীয় মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হলে সংবিধান পাল্টাতে হবে- এ কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সংবিধান পাল্টানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
ফলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তৃতীয় মেয়াদের জন্য মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না- এটা নিশ্চিত। আর আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরামেও জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে নতুন রাষ্ট্রপতি কাকে করা হতে পারে- তা নিয়ে।
তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাও এ বিষয়টি ফোরামে উল্লেখ করেননি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সবকিছু বিবেচনা করে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
টানা দুই মেয়াদে দায়িত্বে থাকা বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমানসম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
মতামত