সুনামগঞ্জের ছাতকে মাওলানা আবদুল আজিজ (রহ.) স্মৃতি পাঠাগার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে প্রসংশা কুড়ছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পৃষ্ঠপোষকের অর্থায়নে এবং গ্রামের মুর- ব্বি, যুবক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মন্ডলীদের সার্বিক সহযোগিতায় সুনাম অর্জন করে পথ চলছে এ স্মৃতি পাঠাগার।
জানা যায়, উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের মরহুম মকদ্দুছ আলীর ছেলে মাওলানা আবদুল আজিজ (রহ:)। ১৯৯৪ সালের ২৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন মাওলানা আবদুল আজিজ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দোলারবাজার দাখিল মাদরাসায় সহ-সুপার হিসেবে শিক্ষকতার মহান পেশায় ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি সিলেটের বিশ্বনাথের সৎপুর কামিল (এম.এ) মাদরাসা থেকে কামিল (হাদিস) ও ১৯৯৪ সালে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল (আদব) এবং ১৯৯২ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে তিনি বি.এ (প্রাইভেট) পাশ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন খুব মেধাবী। আমল আখলাকসহ তিনি ছিলেন এক আদর্শবান মানুষ। বিবাহ বন্ধনের আগেই না ফেরার দেশে চলে যান মাওলানা আবদুল আজিজ। পরে বড় ভাইয়ের পথ ধরে ছোট ভাই মাওলানা শামীম আহমদও মাদরাসায় লেখা পড়া করে কামিল পাশ করেন। বড় ভাইয়ের আদর্শ বুকে লালন করে তার স্মৃতি ধরে রাখতে ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর নিজের
বাড়ির বাংলাতে স্থাপন করেন মাওলানা আবদুল আজিজ (রহঃ) নামে স্মৃতি পাঠাগার। এ পাঠাগারে সংরক্ষিত রয়েছে কোরআন-হাদিসের আলোকে অসংখ্য জ্ঞানর্জনের পুস্তক। পুস্তকগুলো পড়ে অনেকেই জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, পাঠাগারের পৃষ্ঠপোষক, ইতালী প্রবাসী মাওলানা শামীম আহমদের অর্থায়নে এবং গ্রামের মুরব্বি, যুবক ও রাধানগর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসার সকল শিক্ষক মন্ডলীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুরু থেকে স্মৃতি পাঠাগার সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। এ পাঠাগারের পক্ষ থেকে গেল সোমবার প্রথমবারের মতো রাধানগর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসায় ইবতেদায়ী পঞ্চম শ্রেনি থেকে দাখিল দশম শ্রেনি পর্যন্ত ৬জন মেধাবি শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে মেধাবৃত্তি। তারা পেয়েছে নগদ অর্থ, সনদ ও শিক্ষা সামগ্রী। এর আগেও পাঠাগারের পক্ষ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। ওই বছরের জানুয়ারিতে শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল কম্বল।
এছাড়া ২০২৩ সালে মরহুমের ঈসালে সাওয়াব মাহফিলসহ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রসারে কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাওলানা আবদুল আজিজ (রহ.) স্মৃতি পাঠাগারের পৃষ্ঠপোষক মাওলানা শামীম আহমদ জানান, সকলের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে স্মৃতি পাঠাগারের মাধ্যমে এলাকায় শিক্ষা প্রসারসহ সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে তিনি আগ্রহী।
মতামত