শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত



ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় নতুন করে আরও অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫১ জন। নিহতদের মধ্যে গাজা সিটিতেই মারা গেছেন ৩৭ জন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, এখানেই তারা আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একইদিন আল জাজিরার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাদের কোয়াডকপ্টার ড্রোন শেখ রাদওয়ান এলাকার একটি স্কুল ভবনের উপর চক্কর দিচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণ পরই সেটি থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হলে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই স্কুল ভবনেই অস্থায়ী তাঁবু ফেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। এ ছাড়া, আল-আহলি হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, গাজা সিটির তুফাহ এলাকায়ও ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাদ্য সংকট ও অপুষ্টিতে নতুন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে একটি শিশু রয়েছে।

এ নিয়ে দুর্ভিক্ষ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭৩ জনে, যার মধ্যে ১১২ জনই শিশু। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপ বা রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না।

তথ্যমতে, ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি ভঙ্গের পর থেকে ইসরায়েলের নতুন অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১০ হাজার ৭১৭ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৩২৪ জন। এদিকে মানবিক সহায়তা নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ২৪ জন, আহত হয়েছেন ১৩৩ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, শুধু ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ত্রাণের খোঁজে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৭ জন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামাস যদি ইসরায়েলের শর্ত না মানে তবে গাজার সবচেয়ে বড় শহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, গাজায় হামাসের খুনি ও ধর্ষকদের মাথার ওপর শিগগিরই নরকের দরজা খুলে যাবে, যতক্ষণ না তারা ইসরায়েলের শর্তে আত্মসমর্পণ করছে। ইসরায়েলের শর্তের মধ্যে রয়েছে, সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া এবং হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ।

তবে হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে বন্দিদের মুক্তি দিতে রাজি, কিন্তু স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হলে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নই আসে না। গত মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় পূর্ণ অবরোধ জারি করার পর প্রায় ২৪ লাখ মানুষের জীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ, রোগবালাই ও জরুরি সেবার সংকট।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ২৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে, হামাসের ওই দিনের হামলায় ইসরায়েলে প্রাণহানি হয়েছিল ১ হাজার ১৩৯ জনের, আর জিম্মি করা হয়েছিল দুই শতাধিক মানুষকে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৫

featured Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় নতুন করে আরও অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫১ জন। নিহতদের মধ্যে গাজা সিটিতেই মারা গেছেন ৩৭ জন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, এখানেই তারা আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একইদিন আল জাজিরার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাদের কোয়াডকপ্টার ড্রোন শেখ রাদওয়ান এলাকার একটি স্কুল ভবনের উপর চক্কর দিচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণ পরই সেটি থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হলে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই স্কুল ভবনেই অস্থায়ী তাঁবু ফেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। এ ছাড়া, আল-আহলি হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, গাজা সিটির তুফাহ এলাকায়ও ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাদ্য সংকট ও অপুষ্টিতে নতুন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে একটি শিশু রয়েছে।

এ নিয়ে দুর্ভিক্ষ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭৩ জনে, যার মধ্যে ১১২ জনই শিশু। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপ বা রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না।

তথ্যমতে, ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি ভঙ্গের পর থেকে ইসরায়েলের নতুন অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১০ হাজার ৭১৭ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৩২৪ জন। এদিকে মানবিক সহায়তা নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ২৪ জন, আহত হয়েছেন ১৩৩ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, শুধু ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ত্রাণের খোঁজে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৭ জন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামাস যদি ইসরায়েলের শর্ত না মানে তবে গাজার সবচেয়ে বড় শহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, গাজায় হামাসের খুনি ও ধর্ষকদের মাথার ওপর শিগগিরই নরকের দরজা খুলে যাবে, যতক্ষণ না তারা ইসরায়েলের শর্তে আত্মসমর্পণ করছে। ইসরায়েলের শর্তের মধ্যে রয়েছে, সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া এবং হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ।

তবে হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে বন্দিদের মুক্তি দিতে রাজি, কিন্তু স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হলে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নই আসে না। গত মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় পূর্ণ অবরোধ জারি করার পর প্রায় ২৪ লাখ মানুষের জীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ, রোগবালাই ও জরুরি সেবার সংকট।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ২৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে, হামাসের ওই দিনের হামলায় ইসরায়েলে প্রাণহানি হয়েছিল ১ হাজার ১৩৯ জনের, আর জিম্মি করা হয়েছিল দুই শতাধিক মানুষকে।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪