শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

সুরমার জলে দেবী দুর্গার বিসর্জন



সুরমার জলে দেবী দুর্গার বিসর্জন

সিলেটের সুরমা নদীতে ত্রিনয়না দশভুজা দেবী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সিলেটে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরেছেন দেবী দুর্গা।

দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব সমাপ্ত হয়েছে।

এদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সিলেট নগরের চাদনীঘাটের সিঁড়ি দিয়ে সুরমা নদীতে বিসর্জন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

বিসর্জন অনুষ্ঠানের আগে পার্শ্ববর্তী আলী আমজদের ঘড়িঘর সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেটের বিশিষ্টজনেরা ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এরআগে বিকেল ৩টাপর পর নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক যোগে প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে রওনা হন পূজারিরা।

তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে, বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দিতে যান।

বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে নগরময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানান এসএমপি পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

এ বছর সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় ৬১৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর ৫৯৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দেব এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন পূজো হয় ৪২৭টি এবং পারিবারিক পূজো হয় ২৯টি। সিলেট মহানগর এলাকায় সার্বজনীন ১৪২টি ও পারিবারিক আয়োজনে ২০টি পূজো অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, মহানগর এলাকার ১৪২টি মণ্ডপের প্রতিমা নগরের ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি দিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিমাগুলো যার যার সুবিধামতো স্থান দিয়ে বিসর্জন দেওয়ার কথা রয়েছে।

নগরের গোপালটিলা মন্দিরের পুরোহিত কাব্যতীর্থ রজত কান্তি চক্রবর্তী বলেন, এ বছর দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আসবেন হাতিতে চড়ে আর পালকিতে ফিরবেন কৈলাশে। দেবী দুর্গা যুগে যুগে অশুভ শক্তির বিনাশ করে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করবেন এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের।

এর আগে সিলেট নগরের মন্দিরে মন্দিরে চলে নারীদের সিঁদুর খেলা। এদিন সকাল ১০টায় বিসর্জনের পর দেবীর চরণে সিঁদুর ছোঁয়ান সনাতন ধর্মাবলম্বী এয়োস্ত্রীরা (সধবা নারী)। এরপর সমবয়সী নারীরা মাতেন সিঁদুর খেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরের পর থেকে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিক গণেশকে দেওয়া হয় বিসর্জন। দুর্গার বিদায়ে বিষাদের মাঝে আনন্দ কেবল সিঁদুর খেলায়। এরপর বিকেলে সুরমা নদীর বুকে চোখের জলে ত্রিনয়নীকে বিদায় দেন ভক্তরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুরমার জলে দেবী দুর্গার বিসর্জন

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

সিলেটের সুরমা নদীতে ত্রিনয়না দশভুজা দেবী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সিলেটে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরেছেন দেবী দুর্গা।

দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব সমাপ্ত হয়েছে।

এদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সিলেট নগরের চাদনীঘাটের সিঁড়ি দিয়ে সুরমা নদীতে বিসর্জন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

বিসর্জন অনুষ্ঠানের আগে পার্শ্ববর্তী আলী আমজদের ঘড়িঘর সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেটের বিশিষ্টজনেরা ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এরআগে বিকেল ৩টাপর পর নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক যোগে প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে রওনা হন পূজারিরা।

তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে, বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দিতে যান।

বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে নগরময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানান এসএমপি পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

এ বছর সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় ৬১৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর ৫৯৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দেব এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন পূজো হয় ৪২৭টি এবং পারিবারিক পূজো হয় ২৯টি। সিলেট মহানগর এলাকায় সার্বজনীন ১৪২টি ও পারিবারিক আয়োজনে ২০টি পূজো অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, মহানগর এলাকার ১৪২টি মণ্ডপের প্রতিমা নগরের ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি দিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিমাগুলো যার যার সুবিধামতো স্থান দিয়ে বিসর্জন দেওয়ার কথা রয়েছে।

নগরের গোপালটিলা মন্দিরের পুরোহিত কাব্যতীর্থ রজত কান্তি চক্রবর্তী বলেন, এ বছর দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আসবেন হাতিতে চড়ে আর পালকিতে ফিরবেন কৈলাশে। দেবী দুর্গা যুগে যুগে অশুভ শক্তির বিনাশ করে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করবেন এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের।

এর আগে সিলেট নগরের মন্দিরে মন্দিরে চলে নারীদের সিঁদুর খেলা। এদিন সকাল ১০টায় বিসর্জনের পর দেবীর চরণে সিঁদুর ছোঁয়ান সনাতন ধর্মাবলম্বী এয়োস্ত্রীরা (সধবা নারী)। এরপর সমবয়সী নারীরা মাতেন সিঁদুর খেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরের পর থেকে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিক গণেশকে দেওয়া হয় বিসর্জন। দুর্গার বিদায়ে বিষাদের মাঝে আনন্দ কেবল সিঁদুর খেলায়। এরপর বিকেলে সুরমা নদীর বুকে চোখের জলে ত্রিনয়নীকে বিদায় দেন ভক্তরা।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪