আবার নতুন করে আলোচনায় মাওলানা মোহাম্মাদ হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী। আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। গেল নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী মোনাজাত পরিচালনা করে ব্যাপক আলোচিত হন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোর গুঞ্জন উঠেছে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি হুছাম উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। তবে, হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী বা তার পরিবার থেকে বিষয়টি এখনো খোলাসা করা হয়নি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে ভোটের হাওয়া ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি সিলেটের ১৯ টির মধ্যে ১৪ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ওই আসন সহ ৫ টিতে কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এতে মনে করা হচ্ছে বিএনপির সম্ভাব্য শরিকদল জমিয়তের প্রার্থীকে মাওলানা ওবায়দুল্লাহকে এ আসনটি ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর মাওলানা হুছাম উদ্দিন নির্বাচনে
অংশ নিলে পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে যেতে পারে। ওই আসনে তাদের পরিবারের আলাদা একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে।
সূত্র বলছে, ফুলতলী পরিবারের এই প্রভাবশালী আলেম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি একটি বড় ভোট ব্যাংক প্রভাবিত করতে সক্ষম হবেন।
ঘনিষ্ট এক সমর্থক সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, 'হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীকে এলাকার সমর্থকরা নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না। আমরা চাইবো, তিনি যেন প্রার্থী হন। কেননা, এই আসনে হুছাম উদ্দিন ফুলতলীর বিকল্প নাই'।
এদিকে, সাবেক এমপি মাওলানা হোসাম উদ্দিন চৌধুরীর সম্ভাব্য প্রার্থিতার খবরেও জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে আলোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে ফুলতলী পরিবারের নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিক থেকে সিলেট-৫ আসনটি বরাবরই গুরুত্ববহ।
এই অঞ্চলে ইসলামি চিন্তাধারা ও আল ইসলাহ আন্দোলনের একটি শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। ফলে, মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীর মতো একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, তাঁর প্রার্থিতা কেবল আল ইসলাহর অনুসারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নিরপেক্ষ ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ ভোটারদেরও আকৃষ্ট করবে। ফলে, এই আসনে একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী পক্ষ গড়ে উঠতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে হুছাম উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৈঠকে আছেন বলে জানান। তবে তার ঘনিষ্টজন আনজুমানে আল ইসলাহ'র মহাসচিব মাওলানা একেএম মনোওর আলী সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, 'সংগঠন, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা চাচ্ছেন মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী যেন সিলেট-৫ আসনে প্রার্থী হন। এজন্য ফেসবুকে তারা দাবি তুলেছেন। তিনি এখনও সম্মত হননি। আমরাও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি অবজারবেশন করছি। সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরীর মতো একজনকেই প্রয়োজন।'
আনজুমানে আল ইসলাহ'র সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন পাশা বলেন, 'ফেসবুকে গতকাল থেকেই দেখছি। এটা কেবলই গুঞ্জন। তবে, নির্বাচনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কোন সিদ্ধান্ত হলে নিশ্চয়ই সবাইকে জানানো হবে'।
তথ্যসূত্র: সিলেটের মানচিত্র
মতামত