শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীতে সাপ-কুমির ছাড়ার চিন্তা বিএসএফের: দ্য ফেডারেল



বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীতে সাপ-কুমির ছাড়ার চিন্তা বিএসএফের: দ্য ফেডারেল

বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমিতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বিষাক্ত সাপ ও কুমিরের মতো প্রাণী ছাড়ার কথা ভাবছে। এমন খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমিতে সাপ ও কুমিরের মতো প্রাণী ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বা প্রথাগত কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব, সেখানকার নদীপথ ও জলাভূমিতে এ কৌশল প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। সংবাদমাধ্যমটি তাদের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে বলছে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ২৬ মার্চ বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরগুলোতে পাঠানো একটি গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নদীপথের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সরীসৃপ প্রাণী ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৌশলগত দিক থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সাপ বা কুমির ছাড়া কতটা কার্যকর হবে, তা বিস্তারিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসএফ যখন লোকবল সংকট ও পুরোনো অবকাঠামোর সঙ্গে লড়াই করছে, ঠিক তখনই এই ‘বুনো’ উপায়ে সীমান্ত রক্ষার পরিকল্পনাটি সামনে এলো। নথি দ্য ফেডারেলের প্রকাশ করা গোপন নথির ছবি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমানে সীমান্ত এলাকা প্রায় চার হাজার কিলোমিটার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত দুই হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি।

এই সীমানা পাহারায় আছেন দুই লাখ ৬৫ হাজার বিএসএফ সদস্য, গড়ে প্রতি কিলোমিটারে ৪১ জন জওয়ান দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের নভেম্বরে অমিত শাহ বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় সেন্সর ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার কথা থাকলেও নতুন এই নির্দেশনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারত সরকার এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আদিম প্রাকৃতিক শক্তির সমন্বয় করতে চাইছে। গত ২০ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব সীমান্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে জড়িত মামলার তথ্য সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে। দ্য ফেডারেলের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া। বাকি ৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত। মূলত এই ১৭৫ কিলোমিটার দুর্গম পথেই সাপ ও কুমির ছাড়ার চিন্তা করছে ভারত সরকার।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিলেটের বার্তা ২৪

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীতে সাপ-কুমির ছাড়ার চিন্তা বিএসএফের: দ্য ফেডারেল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমিতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বিষাক্ত সাপ ও কুমিরের মতো প্রাণী ছাড়ার কথা ভাবছে। এমন খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমিতে সাপ ও কুমিরের মতো প্রাণী ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বা প্রথাগত কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব, সেখানকার নদীপথ ও জলাভূমিতে এ কৌশল প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। সংবাদমাধ্যমটি তাদের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে বলছে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ২৬ মার্চ বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরগুলোতে পাঠানো একটি গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নদীপথের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সরীসৃপ প্রাণী ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৌশলগত দিক থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সাপ বা কুমির ছাড়া কতটা কার্যকর হবে, তা বিস্তারিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএসএফ যখন লোকবল সংকট ও পুরোনো অবকাঠামোর সঙ্গে লড়াই করছে, ঠিক তখনই এই ‘বুনো’ উপায়ে সীমান্ত রক্ষার পরিকল্পনাটি সামনে এলো। নথি দ্য ফেডারেলের প্রকাশ করা গোপন নথির ছবি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমানে সীমান্ত এলাকা প্রায় চার হাজার কিলোমিটার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত দুই হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি।

এই সীমানা পাহারায় আছেন দুই লাখ ৬৫ হাজার বিএসএফ সদস্য, গড়ে প্রতি কিলোমিটারে ৪১ জন জওয়ান দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের নভেম্বরে অমিত শাহ বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় সেন্সর ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার কথা থাকলেও নতুন এই নির্দেশনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারত সরকার এখন আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আদিম প্রাকৃতিক শক্তির সমন্বয় করতে চাইছে। গত ২০ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব সীমান্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে জড়িত মামলার তথ্য সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে। দ্য ফেডারেলের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া। বাকি ৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত। মূলত এই ১৭৫ কিলোমিটার দুর্গম পথেই সাপ ও কুমির ছাড়ার চিন্তা করছে ভারত সরকার।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪