পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। দেশে ফেরার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু স্বজনদের কাছে জীবিত ফিরে আসার বদলে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের মরদেহ সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো কাছে পেলেও কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের পরিবেশ।
নিহত আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তাঁরা। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুজন। এ দুর্ঘটনায় চার প্রবাসী নিহত হন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ সিলেটের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের মরদেহ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দাফন সম্পন্ন করতে সরকারিভাবে নিহত দুজনের পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি সহায়তা পাওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, নিহত দুজনই তাঁর ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সৌদি আরবে ছিলেন। দেশে ফেরার প্রস্তুতির সময় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
খবর পাওয়ার পর তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় পুরো ইউনিয়নের মানুষ শোকাহত।
সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে লোকমান উদ্দিন বলেন, সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। পরবর্তীতে নির্ধারিত অনুদান দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ এলাকায় তাঁদের দাফন করা হবে।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানো দুই প্রবাসীর এমন মৃত্যুতে পরিবার দুটি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। মরদেহ দেশে আনা ও দাফনের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ায় তাঁরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একের পর এক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হন। ২১ জুনের ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন কানাইঘাটের বাসিন্দা।
পরে ৩০ জুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২২৬ ফ্লাইটে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মরদেহগুলো দেশে আনা হয়।
একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের প্রাণহানিতে কানাইঘাটের পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে পাড়ি জমানো মানুষগুলোর এমন অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি থামছে না।