সিলেট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৪৮ ও ১৯ ব্যাটালিয়নের নিয়মিত ও কঠোর টহল এবং প্রায় প্রতিদিনই সফল অভিযান পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও থামছে না চোরাকারবার।
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা একপ্রকার নাকের ডগাতেই সীমান্ত পেরিয়ে দেদারসে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে ভারতীয় অবৈধ নানা পণ্য। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি দমন করা যেন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত এক সপ্তাহে সিলেট ও এর আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ ১৩ হাজার টাকার বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
৫ নভেম্বর শুক্রবার (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত): কানাইঘাট উপজেলার সুরইঘাট বিওপি এলাকার বাদশা ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তে বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের পৃথক দুটি অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোট ১ হাজার ২৬০ কেজি (৮৪০ কেজি ও ৪২০ কেজি) ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়, যার সিজার মূল্য ১৫ লাখ ১১ হাজার টাকা।
৪ নভেম্বর বুধবার: লোভাছড়া ও গুয়াবাড়ী সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৪৫ বিড়া ভারতীয় খাসিয়া পান ও ২টি গরু জব্দ করা হয়।
২–৩ নভেম্বর সোম ও মঙ্গলবার: জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১টি ভারতীয় এয়ারগান, ওয়াকিটকি সেট, শাড়ি, থ্রিপিস, চাদর, চশমা, কসমেটিকস ক্রিম এবং পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়।
১ নভেম্বর রবিবার: মিনাটিলা, সংগ্রাম, তামাবিল, প্রতাপপুর, দমদমিয়া, উৎমা এবং সুরইঘাট (সোনাতনপুঞ্জি) বিওপি এলাকার অভিযানে ভারতীয় গরু, মহিষ, কম্বল, চকোলেট, সুপারি, ৬০ কেজি জিরা, ৩,৩২০ প্যাকেট পাতার বিড়ি এবং ১টি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
৩১ অক্টোবর শনিবার: বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ি ও চোরাচালান রুটে পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় মদ, প্রসাধন সামগ্রী (কসমেটিকস), মাল্টা, কম্বল, চকলেট, বিস্কুট, জুস, বাসমতি চাল, জিরা এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে শিং মাছ, রসুন ও সোয়েটার জব্দ করা হয়।
৩০ অক্টোবর শুক্রবার: সিলেট সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহল দলের অভিযানে বিভিন্ন চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
উদ্ধারকৃত এয়ারগান ও ওয়াকিটকি সেট সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া জিরাসহ অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য ও গবাদিপশু স্থানীয় কাস্টমস ও শুল্ক গুদামে জমা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নিয়মিত পণ্য জব্দ বা নামমাত্র অভিযান দিয়ে চোরাচালানের এই রুটগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পেছনে জড়িত মূল হোতা ও সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ পণ্যের এই স্রোত থামানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবির তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।