রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগে পুড়ল ঐতিহাসিক টাউন হল

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও সরকারি সেবার মানের অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত এসব কর্মসূচির কয়েকটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লিমোজ শহরের ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হলে আগুন লাগার পর ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। স্কুলের পরিবেশ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা সরকারি সেবার অবনতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাট হয়েছে। প্যারিসে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে লিমোজ শহরের টাউন হলে। বিক্ষোভ-পরবর্তী সহিংসতার সময় ভবনটিতে আগুন লাগে এবং আগুনে এর ছাদ ধসে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একে শহরের ঐতিহ্যের জন্য বড় বিপর্যয় বলে বর্ণনা করেছেন কর্মকর্তারা। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় এক হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্তত ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। এর আগে এক ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের আলঁসোঁ শহরে এক পুলিশ সদস্যকে এক কিশোরীকে হেডলক করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে। ফ্রান্সের বাইরে বেলজিয়ামেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। রাজধানী ব্রাসেলসে পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপ ও আগুন জ্বালানোর অভিযোগ ওঠে। রাজধানীর পূর্বে লিয়েজ শহরেও জলকামান মোতায়েন করা হয়। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কম মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসনসংকটের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ মিছিল করেন। দেশটিতে ২০১৭ সালের পর বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। নতুন চুক্তিতে ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে দেশটির সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম বলেছেন, রাস্তায় বিক্ষোভের চাপে সরকার নতি স্বীকার করবে না। বিক্ষোভকারীরা পাল্টা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের সমস্যাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ইতালির মিলান ও বোলোনিয়ায়ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব শহরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং পাথর নিক্ষেপ করেন। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যসূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগে পুড়ল ঐতিহাসিক টাউন হল