সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা



সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

কমিশন বাড়ানো, এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) সারা দেশে এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশের গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে।


সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, কোম্পানিগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত মূল্যে পণ্যের চালান দেওয়া, সরবরাহ না করা হলে ন্যায্য গাড়িভাড়া দেওয়া, সিলিন্ডারবাহী যানবাহন নিয়ে হয়রানি বন্ধ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের নামে অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করা।


সেলিম খান বলেন, পাচ বছর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করেছিল। এরপর জ্বালানি তেল, পরিবহন, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদাম ভাড়া ও লাইসেন্স ফিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের সাত শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


এর আগে বিইআরসিকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি সিলিন্ডারপ্রতি ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে। এতে বলা হয়, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত একটি সিলিন্ডার আনতে ৫০ টাকা, ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌছাতে ৩৫ টাকা এবং কর্মচারীর বেতন, গুদাম ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খাতে ২৫ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে ৪০ টাকা মুনাফা যোগ করে সিলিন্ডারপ্রতি ১৫০ টাকা কমিশন দাবি করছে সংগঠনটি।


সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান অভিযোগ করেন, বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করলেও কিছু কোম্পানি পাঁচ থেকে সাত দিন পর আবার দাম পরিবর্তন করে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোম্পানি মাসে একাধিকবার দাম সমন্বয় করতে চাইলে বিইআরসির মাধ্যমে তা ঘোষণার দাবি জানান তিনি।


সরবরাহ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানি বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না বলে তাদের অভিযোগ। অনেক কোম্পানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কয়েক লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব সিলিন্ডার সরকারি উদ্যোগে অথবা অন্য কোম্পানির মাধ্যমে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।


ব্যবসায়ীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পরিবেশকের গুদামে গ্যাস পৌঁছে না দিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ন্যায্য গাড়িভাড়া নিশ্চিত করা এবং সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ বা ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও শুধু গাড়ির রেলিংয়ের কারণে ট্রাফিক পুলিশের মামলা না দেওয়া।


এর আগে চলতি বছরের আট জানুয়ারি প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক এবং দাবি পূরণের আশ্বাসের পর ওই দিন বিকেলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।


গত চার অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিষয় : এলপি গ্যাস গ্যাসের মূল্য

সিলেটের বার্তা ২৪

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কমিশন বাড়ানো, এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) সারা দেশে এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশের গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে।


সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, কোম্পানিগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত মূল্যে পণ্যের চালান দেওয়া, সরবরাহ না করা হলে ন্যায্য গাড়িভাড়া দেওয়া, সিলিন্ডারবাহী যানবাহন নিয়ে হয়রানি বন্ধ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের নামে অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করা।


সেলিম খান বলেন, পাচ বছর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করেছিল। এরপর জ্বালানি তেল, পরিবহন, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদাম ভাড়া ও লাইসেন্স ফিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের সাত শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


এর আগে বিইআরসিকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি সিলিন্ডারপ্রতি ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে। এতে বলা হয়, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত একটি সিলিন্ডার আনতে ৫০ টাকা, ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌছাতে ৩৫ টাকা এবং কর্মচারীর বেতন, গুদাম ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খাতে ২৫ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে ৪০ টাকা মুনাফা যোগ করে সিলিন্ডারপ্রতি ১৫০ টাকা কমিশন দাবি করছে সংগঠনটি।


সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান অভিযোগ করেন, বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করলেও কিছু কোম্পানি পাঁচ থেকে সাত দিন পর আবার দাম পরিবর্তন করে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোম্পানি মাসে একাধিকবার দাম সমন্বয় করতে চাইলে বিইআরসির মাধ্যমে তা ঘোষণার দাবি জানান তিনি।


সরবরাহ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানি বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না বলে তাদের অভিযোগ। অনেক কোম্পানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কয়েক লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব সিলিন্ডার সরকারি উদ্যোগে অথবা অন্য কোম্পানির মাধ্যমে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।


ব্যবসায়ীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পরিবেশকের গুদামে গ্যাস পৌঁছে না দিলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ন্যায্য গাড়িভাড়া নিশ্চিত করা এবং সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ বা ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও শুধু গাড়ির রেলিংয়ের কারণে ট্রাফিক পুলিশের মামলা না দেওয়া।


এর আগে চলতি বছরের আট জানুয়ারি প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক এবং দাবি পূরণের আশ্বাসের পর ওই দিন বিকেলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।


গত চার অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
0:00 0:00
1.0x