ইমাম আরবি শব্দ যার অর্থ নেতা। বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশে মসজিদে যিনি নামাজ পড়ান তাকেই ইমাম বলে। কিন্তু ইসলাম বলে যিনি নামাজে অগ্রভাগে থাকেন তিনি সমাজের সকল কল্যাণমূলক কাজ বা রাষ্ট্রগঠনে থাকবেন অগ্রভাগে। আর তিনিই হলেন ইমাম।
তার মর্যাদা সবার কাছে সমানভাবে স্বীকৃত হবে। এমনই মর্যাদা প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের পীরেরচক এলাকাবাসী। একাধারে ৪৬টি বসন্ত কাটিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে বিদায় জানাতে হবে। এটা যেনো কেউ কল্পনাই করতে পারছে না। এলাকার বৃদ্ধ থেকে শিশু আছেন অনেক শালিসব্যক্তিরা। যাদের ধর্মীয় শিক্ষার গুরু তিনি। প্রিয়ভাজন। শ্রদ্ধার পাত্র। উপস্থিত এলাকাবাসীর চোখে জল। অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মৃতিচারণ হয়েছে পীরেরচক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর দীর্ঘ ৪৬ বছরের ইমাম ও খতিব মাওলানা সাইফুল ইসলামের। শনিবার সকাল ১১টায় ইমামতি জীবনের সমাপ্তি উপলক্ষে যুবসমাজ ও গ্রমাবাসী নানা আয়োজনে রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করেন স্থানীয়রা।উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি গ্রামের প্রবিণ মুরব্বির বশির আহমদ ও সমাজসেবী শামীম আহমদ সহ একাধিক বক্তা তাদের বক্তব্যে বলেন, আমাদের মসজিদে ৪৬ বছরের বেশি সময় ধরে ইমামতি করে আসছেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম। কোনো দিন কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। এমনকি কেউ কটু কথা বললেও উত্তর দেননি। এজন্য এলাকার মুসল্লিরা তাকে খুব ভালোবাসেন। আমরা বিদায়ী হুজুরের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছেন। অনেকে অনেকভাবে তার কাছে শিখেছি। আজ তাকে বিদায় দিতে হচ্ছে। এটি খুবই কষ্টের।
বিদায়ী ইমাম সাইফুল ইসলাম বলেন, বিগত ৪৬ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি। মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে আগে বুঝে উঠতে পারিনি। আমি তাদের এতো ভালোবাসায় সত্যিই মুগ্ধ। এসময়ে তিনি উপস্থিত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে নিজের ভুল ত্রুটির ক্ষমা চান।
পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও ফুল ছিটিয়ে মাইক্রোবাসে করে ইমামকে তার বাড়িতে নিয়ে যান এলাকাবাসী। সামনে-পেছনে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ইসলামের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে রাজকীয়ভাবে ইমাম সাহেবকে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিদায় অনুষ্ঠানে জামে মসজিদের বিদায়ী ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামকে নগদ চারলাখ ২৫ হাজার টাকা ও নিত্যব্যবহার্য কিছু সরঞ্জাম তুলে দেন মুসল্লিরা।
অনুষ্ঠানে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক ইউপি সদস্য সইদুর রহমান এনাম, আব্দুল মুছাব্বির সহ অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতামত