পবিত্র ঈদুল আজহায় এলেই অনেকটা হাকডাক করে করে পশুর হাট বসানো হয়। হাট ইজারা নিতে রীতিমতো প্রতিযোগীতা চলে। এবারো এর ব্যাত্যয় ঘটেনি। প্রতিযোগীতা করে হাট ইজারা নেওয়া হয়েছে স্থায়ী হাট ব্যতীরেকে সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার ১৭টি বাজার।
কিন্তু নগরীর বেশিরভাগ পশুর হাটে গরু-ছাগলআমদানি থাকলেও বেঁচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি। অথচ ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও বাজার অনেকটা ক্রেতাশূন্য। খামারি এবং ব্যবসায়ীরা বাজারে কোরবানিযোগ্য পশু গরু, ছাগল, মহিষ তুলে ক্রেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। প্রতিবছর ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে জমে ওঠে পশুর হাটগুলো। স্থানীয় ও জেলার বহিরের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ী ভর্তি করে পশু আসতে থাকে এসব হাটে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ভারি বৃষ্টিতে একাধিক উপজেলায় বন্যা কবলিব হওয়ার পরও হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও এখনো পর্যন্ত চাহিদা
মোতাবেক ক্রেতার সমাগম ঘটেনি হাট গুলোতে। এ কারণে বিক্রেতা খামারি ও ব্যবসায়ীদের চোখ যেন খোঁজে বেড়াচ্ছে ক্রেতাদের।
প্রতিবার ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই হাটে বেচাকেনা শুরু হলেও এবার সেই চিত্র নেই। আগামী দিনগুলোতে বাজার জমবে বলে আশায় আছেন বিক্রেতারা। তবে বিভিন্ন জায়গায় ২/৩ জন করে গরু নিয়ে বসছেন।
সরেজমিন মঙ্গলবার ও বুধবার বিকেলে সিলেটের অন্যতম প্রধান হাট কাজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবার এক সপ্তাহ আগে থেকেই হাটে ক্রেতার উপস্থিতি বেশি থাকলেও এবার তা নেই। বিক্রেতারা অধিক আগ্রহ নিয়ে বসে থাকলেও মনমতো ক্রেতা পাচ্ছেন না। যার কারণে গরু বিক্রি করতে পারছেন না তারা। ভালো বেচাকেনা না হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে এক প্রকার শূন্যতা বিরাজ করছে।
নগরীর সাপ্লাই রোডের চাষনী পীরের মাজার গেইট, সুবিদ বাজার এলাকায় ২/৩ জনকে গরু নিয়ে অবৈধ হাটে বসতে দেখা যায়।
সেখানে ক্রেতা উপস্থিতি না থাকলেও তারা বসে আছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে ২/১ জন করে শুরু করেই অবৈধ হাট বসে।
কাজির বাজারে সিলেটের জকিগঞ্জের শাহগলি থেকে আসা ছাগল বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, এক সপ্তাহ আগে ২৮ টি ছাগল নিয়ে এসেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ টি বিক্রি করেছি। মানুষজন নেই, বিক্রিও নেই। অন্যান্য বছর এই সময়ের মধ্যে প্রায় সবগুলোই বিক্রি করে ফেলতাম। এবার আর তা হচ্ছে না। মানুষজন যারাই আসে, শুধু দাম জিজ্ঞেস করেই চলে যায়। সামনে আরো ২ দিন আছে, দেখা যাক কি হয়।
শহরের শেখঘাট থেকে গরু কিনতে আসা আব্দুস সালাম জানান, এবার গরু কম। অতীতে ৩/৪ দিন আগে বাজারে মানুষের ভীড়ে হাটাচলা করা অনেকটা কঠিন ছিল কিন্তু এবার আর তেমন মানুষ নেই। পছন্দের গরু খোঁজছি অনেক সময় ধরে তবে মনমতো পাচ্ছি না। গরু পছন্দ হলেও দামে হয় না। লাখ টাকার নিচে যেন গরু পাওয়া দায়।
নিয়মিত এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত নগরের তেমুখী এলাকার গরু ব্যবসায়ী ময়না মিয়া জানান, সোমবার রাতে ১২ টি গরু নিয়ে এসেছি। মঙ্গলবার সকালে ১ টি গরু বিক্রি হয়েছে। দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকার গরু রয়েছে। ভালো দাম পেলে বাকিগুলোও বিক্রি করতে পারবো। মানুষজন কম আসছেন, যার কারণে বিক্রি হচ্ছে না। তবে আশা করা যায়, কাল থেকে মানুষজনের আনাগোনা বাড়বে।
কাজির বাজার গরুর হাটের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন লোলন জানান, বাজারের অবস্থা ভালো আছে। বুধবার থেকে আশা করা যায় মানুষজনের উপস্থিতি আরো বাড়বে। আর এখন ক্রেতারা আসছেন, গরু দেখছেন, দামদর করছেন। তবে শহরের লোকজন ঈদের দুই একদিন আগে গরু কিনেন। কারণ গরু রাখার জন্য আলাদা জায়গারও প্রয়োজন রয়েছে। আগে বিভিন্ন জায়গায় গরুর গাড়ি আটকানো হলেও এবার প্রশাসনিকভাবে শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে কোথাও গরুর গাড়ি আটকানোর কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পায়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এবছর সিলেটে ৬৯ টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ৬২টি ও নগরে ৭ টি হাট রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এসএমপির আওতাধীন এলাকায় প্রায় ১৭ টি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এখনো ভালোভাবে হাট বসে নি। যার কারণে কোনো অভিযোগ পাচ্ছি না আমরা। সব জায়গায়ই পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে। কোথাও গরুর গাড়ি আটকানোর বা গরু ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো অভিযোগ এখনো পর্যন্ত কেউ করে নি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, আমাদের অনুমোদিত ৭ টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এছাড়া আর কোনো হাট নেই। কেউ অবৈধভাবে হাট বসালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের র্যাব-৯, এসএমপি ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে সাদাপোষাক ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে একাধিক মোবাইল কোর্টের টিম কাজ করে যাচ্ছে।
মতামত