সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটে এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন এবং ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।
এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাছুম আহমদ লস্কর স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে গোয়াইনঘাটের ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়নের পীরেরবাজার এলাকাসহ আশেপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১০ জনের একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট পীরেরবাজার এলাকায় সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে আস্তানা গেড়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে গরু, মহিষ, চিনি, জিরা, কসমেটিকস ও মাদকদ্রব্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন আনুমানিক ৩ হাজার গরু-মহিষ থেকে মাথাপিছু ১৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে, যার পরিমাণ প্রতিদিন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি প্রতি বস্তা চিনি ও জিরে থেকে ১০০০ টাকা করে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ চাঁদা আদায় করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিছনাকান্দি ও গোয়াইনঘাট কোয়ারি থেকে প্রতিদিন ২০-২২ হাজার ফুট পাথর অবৈধভাবে তুলে প্রতি ঘনফুটে ১২ টাকা হারে দৈনিক ২ লাখ ৪০ হাজার এবং মাসে প্রায় ৭২ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নির্দিষ্ট কোয়ারির লিজ নিলেও তারা অবৈধভাবে পান্তুমাই ও মাতুরতল কোয়ারি থেকে বালু-পাথর উত্তোলন করছে এবং বেআইনিভাবে রয়্যালটি আদায় করছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, উক্ত সিন্ডিকেটের প্রভাবে নিরীহ ট্রাক শ্রমিকদের মারধর, বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং পীরের বাজার ট্রাক শ্রমিক কার্যালয় ২০২৪ সাল থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। চোরাই পণ্য বহনে অস্বীকৃতি জানালে বা তাদের চাপের মুখে পড়লে নিরীহ পরিবহন শ্রমিকদের ওপর নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
মতামত