মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম।
তবে দুর্বল এই চাকরির বাজারের কারণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে—এমন প্রত্যাশায় শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে।
একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে।
এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়।
সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সাথে পরিবর্তন আসতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসাথে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।