রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সিলেটের বার্তা ২৪

ভারতে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, গ্রেপ্তার বহু



ভারতে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, গ্রেপ্তার বহু

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিল্লি ও মুম্বাইয়ে হাজারো তরুণ ও বিরোধী দলের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে নির্বাচন কমিশনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।


মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। তারা ভোটার তালিকার সাম্প্রতিক সংশোধন বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।


বিজ্ঞাপন


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা:

রাজধানী নয়াদিল্লিতেও রোববার সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করেন। আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়িগুলোও ঘিরে ফেলেন তারা। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে পড়েন, আবার কেউ সড়কে শুয়ে পড়ে গাড়ির চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করেন।


জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মী আহনা সিং অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ কঠোর আচরণ করছে।


দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।


গত দুই দিন ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাচ্ছে পুলিশ। এ সময় কয়েক ডজন মানুষকে আটক করে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুক্রবার ও শনিবার আটক কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।


ভোটার তালিকা থেকে লাখো মানুষ বাদ পড়ার অভিযোগ


বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে। তাদের দাবি, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যোগ্য অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে লাখো মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন এবং এতে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে বলে অভিযোগ তাদের।


বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে বলেন, ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের ক্ষমতায় কে থাকবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে—সেটি জনগণের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, নির্বাচন কমিশনের নয়।


তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তির নাম এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে কমিশনের দাবি।


শুক্রবার কমিশন তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, যেসব যোগ্য ভোটারের নাম ভুলবশত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


বিক্ষোভ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা:

নির্বাচন কমিশনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমার এখনো তার পদত্যাগের দাবি বা চলমান বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।


তবে আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভারতের বিরোধী দলগুলোর একটি জোট ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এছাড়া ‘জেন জি ককরোচ জনতা পার্টি’ ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।


মোদীর তৃতীয় মেয়াদে সরকারবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে এটিই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আন্দোলন হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে জুলাইয়ে জাতীয় মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।


ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা এবং সরকারের অবস্থান—সব মিলিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিক্ষোভের পরিধি কতটা বাড়ে এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

বিষয় : আটক গ্রেপ্তার আন্দোলন ভারত

সিলেটের বার্তা ২৪

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, গ্রেপ্তার বহু

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিল্লি ও মুম্বাইয়ে হাজারো তরুণ ও বিরোধী দলের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে নির্বাচন কমিশনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।


মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। তারা ভোটার তালিকার সাম্প্রতিক সংশোধন বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।


বিজ্ঞাপন


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা:

রাজধানী নয়াদিল্লিতেও রোববার সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করেন। আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়িগুলোও ঘিরে ফেলেন তারা। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে পড়েন, আবার কেউ সড়কে শুয়ে পড়ে গাড়ির চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করেন।


জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মী আহনা সিং অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ কঠোর আচরণ করছে।


দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।


গত দুই দিন ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাচ্ছে পুলিশ। এ সময় কয়েক ডজন মানুষকে আটক করে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুক্রবার ও শনিবার আটক কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।


ভোটার তালিকা থেকে লাখো মানুষ বাদ পড়ার অভিযোগ


বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে। তাদের দাবি, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যোগ্য অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে লাখো মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন এবং এতে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে বলে অভিযোগ তাদের।


বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে বলেন, ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের ক্ষমতায় কে থাকবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে—সেটি জনগণের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, নির্বাচন কমিশনের নয়।


তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তির নাম এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে কমিশনের দাবি।


শুক্রবার কমিশন তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, যেসব যোগ্য ভোটারের নাম ভুলবশত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।


বিক্ষোভ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা:

নির্বাচন কমিশনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমার এখনো তার পদত্যাগের দাবি বা চলমান বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।


তবে আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভারতের বিরোধী দলগুলোর একটি জোট ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এছাড়া ‘জেন জি ককরোচ জনতা পার্টি’ ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।


মোদীর তৃতীয় মেয়াদে সরকারবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে এটিই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আন্দোলন হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে জুলাইয়ে জাতীয় মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।


ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা এবং সরকারের অবস্থান—সব মিলিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিক্ষোভের পরিধি কতটা বাড়ে এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।


সিলেটের বার্তা ২৪

প্রকাশক: মোঃ আব্দুর রহমান
সম্পাদক: আতিকুর রহমান নগরী
উপদেষ্টা মণ্ডলী: মাওলানা জসিম উদ্দিন (ইউকে), রোটা. এএসএম আরিফ হোসেন, মোঃ নান্নু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সিলেটের বার্তা ২৪
ভারতে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, গ্রেপ্তার বহু
0:00 0:00
1.0x